নিউজ ডেস্ক : জল্পনা উড়িয়ে বিজেপিতে জ্যোতির্মী। বাংলার এক তারকা যুক্ত হলো বিজেপিতে। সল্টলেকে তাঁর বাড়ির পিছনেই বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ থাকেন। সপ্তাহ খানেক আগে হঠাৎ দিলীপবাবুকে ডেকে চা খাওয়ান জাকার্তা এশিয়াডে সোনা জয়ী অ্যাথলিট তথা প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ জ্যোতির্ময়ী সিকদার। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই জল্পনা তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। তাহলে কি এবার গেরুয়া শিবিরে যাচ্ছেন একদা সুভাষ চক্রবর্তীর স্নেহধন্য এই ক্রীড়াবিদ? সেটাই সত্যি হলো।

অমিত শাহের ভার্চুয়াল জনসভা শেষ হওয়ার পরই তা সত্যি হল। রাজ্য বিজেপি দফতরে পদ্মফুল আঁকা পতাকা জ্যোতির্ময়ীর হাতে তুলে দিলেন দিলীপ ঘোষ। এক পাশে কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা এবং অন্য পাশে প্রাক্তন রেলমন্ত্রী তথা প্রবীণ বিজেপি নেতা মুকুল রায়।

২০০৪ সালে কৃষ্ণনগর আসনের প্রার্থী বাছাই নিয়ে যখন সিপিএমের ভিতরে তুমুল কোন্দল চলছে, তখন তৎকালীন রাজ্য সম্পাদক প্রয়াত অনিল বিশ্বাস সুভাষ চক্রবর্তীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন একজন খেলোয়াড়কে প্রার্থী করার। সেই সময়ে সিপিএমের সাংগঠনিক শক্তি এতটাই মজবুত যে, কৃষ্ণনগরে জিততে অসুবিধা হয়নি এই অ্যাথলিটের। এমনকি ২০১৬ সালের বিধানসভাতেও সিপিএম প্রার্থী হিসেবে সোনারপুর উত্তর থেকে লড়েছিলেন জ্যোতির্ময়ী। যদিও সেবার হারতে হয়েছিল তাঁকে।

এরপর উনিশের লোকসভার আগে বারাসতের তৃণমূল প্রার্থী কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সমর্থনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা মঞ্চে উঠে শাসকদলে যোগ দেন তিনি। এক বছর কাটতে না কাটতেই ফের ট্র্যাক বদল করলেন ‘সোনার মেয়ে।’ জ্যোতির্ময়ীর বিজেপিতে যাওয়া প্রসঙ্গে সিপিএমের রাজ্য কমিটির এক প্রবীণ নেতা বলেন, “এর দায় তো আমাদের নিতে হবে। আমরাই তো ওঁকে প্রার্থী করে ক্ষমতার গন্ধ দিয়েছিলাম কিন্তু রাজনীতি বা মতাদর্শ দিতে পারিনি!”

প্রসঙ্গত, জ্যোতির্ময়ীর স্বামী অবতার সিংকে ঘিরে একাধিক বার বিতর্ক উঠেছে। কখনও নয়াপট্টির জোড়া খুনের মূল অভিযুক্ত তথা সল্টলেকের একদা ত্রাস হাতকাটা দিলীপকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে তো কখনও হোটেলে মধুচক্র চালানোর অভিযোগ। অনেকের মতে, প্রতিবারই স্ত্রী জ্যোতির্ময়ীর সঙ্গে সিপিএমের সম্পর্কের দৌলতে তদন্ত এগোয়নি বেশি দূর। তবে জ্যোতির্ময়ী এদিন বলেছেন, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশে যে বিকাশ চলছে, তাতে সামিল হতেই তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।