সভ্য দেশে আমেরিকাতে চলন্ত ট্রেনে ধর্ষণ তরুণীকে, অন্য যাত্রীরা ভিডিও করে উপভোগ করলো রেপ!

নিউজ ডেস্ক : চলন্ত ট্রেনে এক মহিলাকে ধর্ষিত হতে দেখেও নীরব রইল কামরার যাত্রীরা! বরং নিজেদের স্মার্টফোনে তুলে রাখল নিগ্রহের ভিডিও! এমনই এক অমানবিক বর্বর মর্মান্তিক ঘটনার ঘটেছে আমেরিকার ফিলাডেলফিয়াতে। সেদেশের আপৎকালীন ৯১১ নম্বরেও ফোন করে খবর দেওয়ার চেষ্টা করেননি কোনও যাত্রী। গোটা ঘটনায় হতভম্ব সারা বিশ্ব। কী করে এমন নির্লিপ্তি দেখালেন যাত্রীরা ভেবে পাচ্ছেন না কেউই।

উত্তর ফিলাডেলফিয়ায় একই স্টেশন থেকেই ট্রেনে ওঠেন নির্যাতিতা ও অভিযুক্ত। এরপরই অভিযুক্ত ঝাঁপিয়ে পড়ে নির্যাতিতা তরুণীর উপরে। প্রথমে সে ওই তরুণীকে হেনস্তা করতে থাকে। পরে ট্রেনের কামরার মধ্যেই তাঁকে ধর্ষণও করে। সব মিলিয়ে ৪০ মিনিট ধরে সকলের চোখের সামনেই নারকীয় কাণ্ড করতে থাকে সে। অথচ কারও দিক থেকে সামান্যতম প্রতিবাদের চিহ্নও দেখা যায়নি। সবাই সেই কান্ড দেখে, খেলার মতো উপভোগ করেছে!

অভিযুক্ত যুবকের নাম ফিস্টন। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অন্যান্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। কী করে খবর গেল পুলিশের কাছে? জানা যাচ্ছে, ট্রেন শেষ স্টপে পৌঁছনোর পরে রেলের অফিসাররা ঘটনাটি দেখতে পান। তাঁরাই ওই নির্যাতিতাকে উদ্ধার করেন। এরপরই ৯১১ নম্বরে ফোন করা হয়। সেই ফোন পাওয়ার ৩ মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে যায় পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তকে।

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনার সময় ট্রেনে ২৪ জনেরও বেশি যাত্রী ছিল। তাঁদের মধ্যে একজনও ৯১১ নম্বরে ডায়াল করে দিলেও ওই নির্যাতিতাকে আরও আগে ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচানো যেত। পুলিশ বিভাগের সুপারিন্টেন্ডেন্ট টিমোথি বার্নহার্ড ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’কে জানিয়েছেন, ট্রেনের মধ্যে থাকা ক্যামেরায় গোটা ঘটনার ফুটেজই উদ্ধার করা হয়েছে। আশ্চর্যজনক ভাবে দেখা গিয়েছে কামরার যাত্রীরা সকলেই নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। তাঁর আক্ষেপ, ”একজনও কি পারতেন না কিছু একটা করতে?” তিনি এও জানিয়েছেন, কামরার যাত্রীদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করতে পারে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধেও আনা হতে পারে অভিযোগ। কিন্তু সংশ্লিষ্ট এলাকার অ্যাটর্নির দপ্তরই সেব্য়াপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।