নিউজ ডেস্ক : টাক নিয়ে আর হাসি – মজাকের দিন শেষ, শাস্তি হিসাবে জেলও হইতে পারে। মাথায় কারও চুল নাই থাকতে পারে। তা বলে কাজের জায়গায় তাঁকে নেড়া বলে কটাক্ষ করা যাবে না। এমনটা করা হলে তা যৌন নিগ্রহ হিসেবে গণ্য করা হবে।  সম্প্রতি এই রায় দিয়েছে ব্রিটেনের এক এমপ্লয়মেন্ট ট্রাইবুনাল। তা নিয়েই বিস্তর চর্চা শুরু হয়েছে ব্রিটেনে।

টনি ফিন নামের এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে এই কথা জানানো হয়েছে  ওই এমপ্লয়মেন্ট ট্রাইবুনালের পক্ষ থেকে। ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার এলাকার এক কোম্পানিকে ইলেক্ট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন টনি। ২৪ বছর ধরে পরিশ্রম করেছেন সেখানে। কিন্তু গত বছরের মে মাসে টনিকে বরখাস্ত করা হয়। এরপরই কোম্পানি এবং কোম্পানির সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হন ব্রিটেনের নাগরিক

টনির অভিযোগ, একটি মেশিন ঠিক করার কাজ করছিলেন তিনি। তা ঢেকে রেখেছিলেন। কারণ মেশিনটি ঠিক করার জন্য আরও সময়ের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু পরে টনি এসে দেখেন তাঁর সুপারভাইজার জেমি কিং মেশিন ঢেকে রাখার কভারটি সরিয়ে দিয়েছেন।  এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জেমি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। কথার মাঝে টনির নেড়া মাথা নিয়ে কটাক্ষ করে।
টনির থেকে প্রায় তিরিশ বছরের ছোট জেমি। তাঁর এমন মন্তব্যে ভীষণভাবে অপমানিত হয়েছেন বলে ট্রাইবুনালে অভিযোগ জানান টনি। এই বিষয়টিকে তিনি যৌন হেনস্তার সঙ্গে তুলনা করেছেন। টনির অভিযোগে মান্যতা দিয়েছে বিচারক জোনাথন ব্রেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইবুনাল। এর নেপথ্য যুক্তি হিসেবে পুরনো এক মামলার উদাহরণ দেওয়া হয়। সেই মামলায় এক মহিলার স্তন নিয়ে মন্তব্য করার জন্য এক যুবকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তা যদি শারীরিক নিগ্রহ হয়ে থাকে তাহলে টনির ক্ষেত্রেও নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে বলেই মত ট্রাইবুনালের। এর জন্য দিতে হতে পারে জরিমানা।