দীর্ঘ ছয়মাস পর প্রতীক্ষার অবশান, নভেম্বরের ১-তারিখ থেকে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠন-পাঠন শুরু

সাইফুদ্দিন মল্লিক : কোভিড পরিস্থিতি ও লকডাউনে টানা ছয় মাস কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিল।এবার পঠন-পাঠনের প্রস্তুতি শুরু পথে। চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ট্যুইট করে জানান কবে থেকে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হবে এবং গাইডলাইন কি দিতে চলেছে সেই বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দিয়েছিলেন। গতকাল ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউজিসি তরফে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস কবে থেকে শুরু, পঠন পাঠনের ক্ষতি রুখতে কিভাবে সামাল দেওয়া হবে তা নিয়ে বিস্তারিত গাইড লাইন জারি করা হল। নভেম্বর থেকে শুরু হবে ক্লাস।

করোনা সংক্রমণের জেরে গত মার্চ মাস থেকে বন্ধ রয়েছে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠন পাঠন। সম্প্রতি অবশ্য প্রায় ১০টি রাজ্যে শুরু হয়েছে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস। যদিও যারা ইচ্ছুক তারাই যাচ্ছে স্কুলে। এর জন্য স্কুলগুলিতে একাধিক ব্যবস্থা করতে হয়েছে। এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশাঙ্ক জানিয়েছেন, নভেম্বর মাস থেকে শুরু হবে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস। তার মধ্যেই এবার ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নয়া গাইডলাইন প্রকাশ করল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন না ইউজিসি।

এতদিন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাসের অনেক ক্ষতি হয়েছে। শুধু থিওরি ক্লাস নয়, প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসও নেওয়া হয়নি। তার ফলে পাঠ্যক্রমের অনেকটাই বাকি রয়েছে। এই অবস্থায় ক্লাস শুরু হওয়ার পরে কী ভাবে কম সময়ের মধ্যে সিলেবাস শেষ করা সম্ভব তার জন্য একটি গাইডলাইন প্রকাশ করেছে ইউজিসি। এর মধ্যে আট দফা নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।

২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার ইউজিসির তরফে তিন পাতার মোট আট দফা গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়। ওই গাইডলাইনে বলা হয়েছ,
১. ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ এবং ২০২১‐২২ শিক্ষাবর্ষের পঠন-পাঠনের ক্ষতি আটকাতে প্রয়োজন হলে সপ্তাহে ৬ দিন ক্লাস নিতে হবে কলেজ (College) ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে। কাটছাঁট করতে হবে এককালীন ছুটিগুলিকেও।

২. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি মনে করলে প্রভিশনাল অ্যাডমিশন করতে পারে। প্রয়োজনে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যাবতীয় নথি গ্রহণ করতে পারবে।

৩. প্রবেশিকা বা মেধাভিত্তিক ছাত্র ভরতির প্রক্রিয়া অক্টোবর মধ্যেই শেষ করতে হবে। তবে বাকি থাকা আসনে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত পড়ুয়া ভরতি নেওয়া যাবে।

৪. স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে পয়লা নভেম্বর থেকে প্রথম সেমিস্টার বা প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু করতে হবে। তবে যদি কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফলপ্রকাশ দেরিতে হয় সেক্ষেত্রে ১৮ নভেম্বরের পর ক্লাস শুরু করতে পারে। তবে এই সময়কালে অনলাইন কিংবা অফলাইনে পঠনপাঠন চালু রাখতে হবে।

৫. কোভিড পরিস্থিতিতে অর্থনীতির হাল সকলেরই অত্যন্ত খারাপ। সেকথা মাথায় রেখে যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীর আবেদন বাতিল হবে তাদের পুরো টাকা ফেরত দিতে হবে।

৬. সমস্ত রকম কোভিড বিধি মেনেই ক্লাস নিতে হবে। সেক্ষেত্রে ইউজিসির প্রকাশিত ২৯ এপ্রিল কিংবা ৬ জুলাইয়ের বিধি মেনে চলতে হবে।

৭. ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে করোনাকালে প্রয়োজন হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি নিয়ম বদল করতে পারে।

৮. যদি বর্তমান পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রী ভরতির ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হয় তবে ছাত্র ভরতির প্রক্রিয়ায় বদল আনতে পারে।