আরামবাগ টিভির সম্পাদক, স্ত্রী ও সাংবাদিককে গ্রেফতার, প্রতিবাদে রাজ্যপালের টুইট

নিউজ ডেস্ক : আরামবাগ টিভির উপর সরকারি ফাঁড়া। গ্রেফতার করা হলো টিভি এর সম্পাদক, রিপোটার এবং সম্পাদকের স্ত্রী। কিছু মাস আগে ‘ভুয়ো খবর’ দেখানোর মামলা হয়েছিল আরামবাগ টিভি ইউটিউব চ্যানেলের সম্পাদক সেখ সফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। জুন মাসের গোড়ায় সেই মামলায় হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, সফিকুলকে এখন গ্রেফতার করতে পারবে না পুলিশ।

কিন্তু অন্য একটি মামলায় সফিকুলকে রবিবার রাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর স্ত্রী আলিমা বিবি এবং আরামবাগ টিভির আরএক সাংবাদিক সুরজ আলি খানকে। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালাচোনা করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। সোমবার সফিকুলদের আরামবাগ আদালতে তোলা হয়েছিল। বিচারক তাঁদের সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু আগের মামলায় বিচারপতি দেবাংশু বসাক নির্দেশ দিয়েছিলেন, সফিকুলকে গ্রেফতার করা যাবে না। নতুন মামলা করে জেলবন্দী করা হলো!

কিন্তু গতকাল একটি এফআইআর দায়ের হয় সফিকুল ও আরামবাগ টিভির সাংবাদিক সুরজের বিরুদ্ধে। তাতে বলা হয়, গাছ কাটা নিয়ে এক ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী পুলিশকে বলেন, সুরজ তাঁকে হুমকি দেন, ৩০ হাজার টাকা না দিলে গাছ কাটার খবর ফাঁস করে দেবেন! তাঁর বক্তব্য, তিনি সুরজকে বলেছিলেন পঞ্চায়েতের নির্দেশে গাছ কাটছেন। তাও টাকা চাওয়া হয়।

আগের মামলা কী ছিল দেখে নেওয়া যাক। এপ্রিল মাসে ওই ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, লকডাউনের মধ্যেও থানা থেকে ক্লাবগুলিকে চেক বিলি করা হচ্ছে। প্রথমে পুলিশ অস্বীকার করলেও পরে কাগজে কলমে মেনে নেয় চেক বিলি হয়েছিল। সফিকুলের অভিযোগ ছিল, পুকুর চুরি হওয়া মানুষের সামনে তুলে ধরার কারণেই এই পুলিশ উঠেপড়ে লেগেছে তাঁকে জেলে পাঠাতে। সেই সময়ে অনেকে বলেছিলেন, যে ক্লাবগুলিকে পুলিশ সরকারি চেক বিলি করেছিল তার অধিকাংশের কোনও অস্তিত্বই নেই। সবটাই শাসকদলের নেতাদের লুটে খাওয়ার বন্দোবস্ত। এদিন রাজ্যপাল টুইট করে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে লিখেছেন, “সরকারি টাকা ভুয়ো ক্লাবগুলির মধ্যে বিলি করা তুলে ধরাতে সফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার হয়েছে।” কটাক্ষ করে রাজ্যপাল এও লিখেছেন, “যদি সাংবাদিকরা চুপ করে থাকে তবেই সেটা গণতন্ত্র

এদিন সফিকুলের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এই পুলিশ একেবারে তৃণমূলের ক্যাডারবাহিনীর মতো কাজ করছে। কোনও লাজলজ্জা নেই। সফিকুলের দুটি শিশু সন্তানকেও পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়েছিল। পরে তাদের ছাড়া হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় শিশু সুরক্ষায় লকডাউন চলছে।” পুলিশের তরফে ১৪ দিনের হেফাজত চাওয়া হলেও বিচারক সাত দিনের হেফাজত মঞ্জুর করেন।

স্থানীয়দের অনেকের অভিযোগ, সফিকুলের উপর পুলিশের রাগ অন্য কারণে। তাঁদের বক্তব্য, সম্প্রতি নদী থেকে বালি চুরির সঙ্গে প্রশাসনিক যোগের খবর আরামবাগ টিভিতে দেখানো হয়েছিল। তারপর জেলাশাসক ব্যবস্থা নেন। তাঁদের বক্তব্য, ওই ঘটনার পর পুলিশে বাঁহাতি রোজগার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সেই কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের বক্তব্য, যা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সবটাই আইন মেনে। আরামবাগের শাসকদলের কোনও নেতা প্রতিক্রিয়া না দিলেও ঘরোয়া আলোচনায় তাঁরা বলছেন, সফিকুল সাংবাদিকতার নামে হুমকি দিয়ে তোলা আদায় করছিল। পুলিশ যা করেছে সঠিক কাজ করেছে।

 

আরামবাগ টিভির অধিকাংশ খবর সরকারি বিরোধী হয়ে থাকে। সরকারের বিরুদ্ধ, মিথ্যা প্রহসন, স্থানীয় প্রশাসনের দুর্নীতি, শাষক দলের স্থানীয় নেতাদের দুর্নীতি, আরামবাগ এলাকা বা হুগলি জেলার পুলিশের দুর্নীতি খবর করে থাকে আরামবাগ টিভি। উক্ত বিভন্ন খবরে শাসক দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে থাকে, সেই অর্থে শোষক গোষ্ঠীর রক্তচক্ষু আরামবাগ টিভি। মিথ্যা অভিযোগ তুলে আরামবাগ টিভির সম্প্রচার বন্ধ করতে চাই সরকার বা স্থানীয় প্রশাসন।

সরকারের দুর্নীতি ফাঁস, পুলিশের দুর্নীতি নিয়ে খবর করা কি অপরাধ ? মিথ্যা খবর পরিবেশন বা প্রচার করলে অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা করা দরকার। কিন্তু সত্য খবর প্রচারে, ক্ষমতার বলে জেলে বন্ধ করা এবং মামলাতে ফাঁসানো গনতন্ত্রের হত্যা। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার যে ভাবে বিরুদ্ধে খবরের সাংবাদিকদের জেলে ভরছে ও মামলা দিচ্ছে অনুরূপ বাংলাতেও ঘটলো। গ্রেফতারে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। অবিলম্বে মুক্তি চাই।