দেওয়ালিতে জেলেই থাকতে হবে অর্নবকে! বম্বে হাইকোর্টের স্পেশাল শুনানিতেও জামিন হলোনা

নিউজ ডেস্ক: বিশেষ শুনানির পরও জামিন পাননি রিপাবলিক টিভির প্রধান সম্পাদক অর্ণব গোস্বামী৷ শনিবার বম্বে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ আত্মহত্যার প্ররোচনায় অভিযুক্ত অর্ণবের জামিনের ব্যাপারে রায়দান রিজার্ভ করেছে৷ ইন্টিরিয়ার ডিজাইনার অন্বয় নায়েক ও তাঁর মাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে ধৃত অর্ণব ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৩৯ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্টে আবেদন জানানোর আগে নিম্ন আদালতে জামিনের আর্জি জানাননি, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতিরা।

যদিও এর আগে আলিবাগে এক মিউনিসিপ্যাল স্কুলের কোয়ারানটিন সেন্টারে রাখা হয়েছিল। আর সেখানেই মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অর্ণবের মামলার তদন্তকারী অফিসার জামিল শেখ জানিয়েছেন, ‘শুক্রবার পর্যন্তও অর্ণব সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকটিভ ছিলেন বলে জানতে পারি। অন্য কোন ব্যক্তির মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন তিনি। তাঁর ফোন আমরা বাজেয়াপ্ত করে নিয়েছি। এ বিষয়ে আলিবাগের জেল সুপারিটেন্ডেন্টকে তদন্ত রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছে। এই কারণে রবিবারই অর্ণবকে তালোজা জেলে পাঠানো হয়েছে।’

এদিন জেলে পাঠানোর সময় অবশ্য চিৎকার করতে থাকেন তিনি। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমার জীবন বিপন্ন হয়ে উঠেছে। আদালত আমাকে যেন সাহায্য করে।’ একইসঙ্গে অর্ণব এদিন অভিযোগ করেছেন, জেলে তাঁকে নিগ্রহ করা হয়েছে এবং তাঁর আইনজীবীর সঙ্গেও কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না দাবি তাঁর।

শনিবার রায় রিজার্ভ করার আগে বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি এস এস সিন্ধের বক্তব্য, ‘নিম্ন আদালতের বিচারের অধিকার খর্ব করা যায় না৷ এই আবেদনে সম্মতি জানানো হলে কোনও অভিযুক্ত আর নিম্ন আদালতের দ্বারস্থ হবেন না, সকলে হাইকোর্টে আবেদন জানাবেন৷’ ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, বম্বে হাইকোর্ট রায়দান করার আগে প্রয়োজনে সেশন কোর্টে জামিনের আর্জি জানাতে পারেন অর্ণব৷ সেই আবেদন করা হলে, চারদিনের মধ্যে তার বিচার করতে হবে বলে শনিবার জানিয়েছেন বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি এস এস সিন্ধে এবং বিচারপতি এম এস কার্ণিক৷

এর ফলে দিওয়ালির আগে অর্ণবের জামিন পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ালো৷ সব আদালতে ইতিমধ্যেই দিওয়ালির ছুটি শুরু হয়ে গিয়েছে৷ নিতান্ত জরুরি মামলা ছাড়া এখন অন্য কোনও শুনানি হবে না কোনও আদালতেই৷ এমনই একটি মামলা, রায়গড় পুলিশের তরফে দায়ের করা অর্ণবের পুলিশি হেফাজতের আবেদন৷ সোমবার আলিগড় সেশন কোর্ট অর্ণবকে বিচারবিভাগীয় হেফাজত থেকে পুলিশি হেফাজতে স্থানান্তরিত করার ব্যাপারে রায় জানাবে৷ এসবের মাঝে অর্ণব সেশন কোর্টে জামিনের আবেদন করেন কী না সেদিকেই চোখ সকলের৷ হাইকোর্টে যাওয়ার আগে রায়গড়ের নিম্ন আদালতে জামিনের আবেদন করেও প্রত্যাহার করেছিলেন অর্ণবের আইনজীবী৷ শনিবার বম্বে হাইকোর্ট সাফ জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী নিম্ন আদালতেই আগে জামিনের আবেদন দাখিল করতে হবে৷

শনিবার বম্বে হাইকোর্টে ছুটি থাকলেও বিচারপতিরা বিশেষ শুনানির ব্যবস্থা করেছিলেন৷ দুপুর বারোটায় শুনানি শুরু হয়ে চলে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত৷ মহারাষ্ট্র প্রশাসনের তরফে আইনজীবী অমিত দেশাই বলেন, ‘অভিযুক্ত অর্ণব বার বারই বলছেন, তাঁকে অন্যায় ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ কিন্তু যাঁরা আত্মহত্যা করেছিলেন, তাঁদের সুইসাইড নোটে অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল৷ তার পরিপ্রেক্ষিতেই নতুন করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে৷ এই তদন্ত শুরুর কথা জানতেন ম্যাজিস্ট্রেট, কারণ ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারায় বিভিন্ন সাক্ষীকে জেরা করা হয়েছে৷ প্রয়োজনে তা পেশ করা হবে আদালতে৷ কোনও ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর যখন বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়, তখন গ্রেপ্তারিকে নয়, চ্যালেঞ্জ জানাতে হবে রিমান্ডের আদেশকে। এ ক্ষেত্রে তা করা হয়নি৷ বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ হওয়ার পর গ্রেপ্তারের ইস্যুটির আর মূল্য থাকে না৷’

অর্ণবের যুক্তি ছিল, ২০১৮ সালে ‘ক্লোজড ‘ হয়ে যাওয়া মামলার নতুন করে তদন্ত শুরু করতে পারে না রাজ্য সরকার৷ দেশাইয়ের দাবি, ‘জঙ্গি ঘটনার কথা বিচার করুন, যেখানে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না৷ বিচারকের সামনে পুলিশ জানালো সে কথা৷ এর কিছুদিন পর জঙ্গি সম্পর্কে প্রমাণ পেল পুলিশ৷ তখন কী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশের জন্য অপেক্ষা করবে, নাকি জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করবে?’ অর্ণবের আইনজীবী হরিশ সালভে ও আবদ পন্ডার বক্তব্য ছিল, ‘সংবিধানের ৩২ ধারা প্রয়োগ করে সুপ্রিম কোর্ট যদি জামিন দিতে পারে, তাহলে হাইকোর্টও সংবিধানের ২২৬ ধারা প্রয়োগ করে যে কোনও মুহূর্তে জামিনের নির্দেশ দিতে পারে৷ আমরা অনুরোধ করব, অভিযুক্তকে অন্তবর্তী জামিন দেওয়া হোক৷’ কিন্তু বম্বে হাইকোর্ট সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি৷

মুম্বই পুলিশের তরফেও অর্ণবের জামিনের বিরোধিতা করা হয়৷ আইনজীবী দেবদত্ত কামাতের অভিযোগ, ‘মামলা দায়ের হয়েছিল রায়গড়ে, মুম্বই পুলিশের সঙ্গে এর কোনও যোগই নেই৷ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে মুম্বই পুলিশের প্রধানকে মামলার পার্টি করা হয়েছে! এটা সাংবিধানিক আদালত, কোনও টিভি স্টুডিয়ো নয়৷’

তথ্য : এই সময় সংবাদ।