মাস্ক পরতে বলাতে বিজেপির নেতা, ভাগ্নে ও ১২ জন সাথীর বেধড়ক মার পুলিশকে- উত্তর প্রদেশ

নিউজ ডেস্ক : বিজেপি মানেই আইন অমান্য, বিজেপি মানে পুলিশকে মারধর! কদিন আগেই জাতির উদ্দেশে ভাষণে এমন অভিযোগ তুলেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, আনলকে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। প্রশাসনকে এনিয়ে কড়া হতেও বলেছেন মোদী। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর দলের এক নেতার বিরুদ্ধেই উঠল গুরুতর অভিযোগ। মাস্ক না পরায় পুলিশ প্রশ্ন করলে তিনি মারমুখী হয়ে ওঠেন। শুধু মার‌মুখী হওয়ায়ই নয়, দলবল নিয়ে পুলিশ পেটানোরও অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ওই বিজেপি নেতা ও তাঁর ভাগনাকে। ঘটনা উত্তর প্রদেশ। দুই দিন আগে উত্তর প্রদেশেই DSP সহ আট পুলিশ কর্মীকে গুলি করে হত্যা করে বিজেপি ঘনিষ্ঠ ডন বিকাশ দুবে।

জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাওয়ায় এক সাব-ইন্সপেক্টর সহ তিন পুলিশকর্মীকে পেটানোর অভিযোগ। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সিনিয়র সুপারইনটেনডেন্ট প্রভাকর চৌধুরী এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, বারাণসীর সুন্দরপুর এলাকায় ওই কাণ্ডের জন্য বিজেপি নেতা সুরেন্দ্র প্যাটেল-সহ দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত আরও কয়েকজন। পুলিশের পক্ষে বলা হয়েছে, পুলিশকে মারধরের ঘটানোয় জড়িত আরও পাঁচ অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে। সকলের বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদসংস্থাকে পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে উত্তরপ্রদেশের সুন্দরপুরে এই কাণ্ড ঘটে। পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার সাব-ইন্সপেক্টর সুনীল গৌড়ের কাছে খবর আসে যে, সুন্দরপুর-খোয়াজা রোডে কাউকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ শুনেই ঘটনা খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখানেই দেখা যায়, সুরেন্দ্র পটেলের ছেলে বিকাশ সহ দু’জন মাস্ক না পরেই বসে রয়েছেন। অভিযোগ, তাঁদের মাস্ক কোথায় প্রশ্ন করায় পুলিশকর্মীদের উদ্দেশে কটূক্তি করেন এই দু’জন। এই নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হলে, বিকাশ ফোন করে বাবা সুরেন্দ্র, কাকা বিন্দু ও এক ভাই বীরেন্দ্রকে ডেকে আনেন। পুলিশের দাবি, প্রায় জনা ১২ জন মিলে পুলিশকে মারধর করে। খবর পেয়েই সেখানে পুলিশের বড় বাহিনী পাঠানো হয়। পৌঁছান পুলিশ সুপার বিকাশচন্দ্র ত্রিপাঠী, সার্কেল অফিসার প্রীতি ত্রিপাঠী। সুরেন্দ্র ও বীরেন্দ্রকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। শনিবার, দু’জনেই জামিন পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে এখনও পাঁচ জনের তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

কাশীর বিজেপি সভাপতি মহেশচন্দ্র শ্রীবাস্তব এই পুলিশ পেটানোকে বিক্ষিপ্ত ঘটনা বলে দাবি করেছেন। গত ২ জুলাই সন্ত্রাসী বিজেপির আশ্রিত বিকাশ দুলে সিনেমার কায়দাতে আট পুলিশ কর্মীকে হত্যা করেন। অমিত শাহ, প্রধানমন্ত্রী মোদি, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্য নাথ, উমা ভারতী, বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা সমস্থ বিজেপি উঁচু নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং বিভন্ন ছবি তার প্রমান দিয়েছে। মাস্ক না পরেও আইন অমান্য করেছে, ক্ষমতার বলে পুলিশ পিটিয়েছে। বিজেপির নেতারা আইন অমান্যকারী এটা বার বার প্রমানিত হচ্ছে!