সমীক্ষা উল্টে, বিহারে আসাদউদ্দিন ও মায়াবতী নৌকাতে বিজেপি ২০২০ বিধানসভা পারাপার হতেও পারে !!

সাইফুদ্দিন মল্লিক : রাত গেলেই নির্বাচন ফলাফল। আগামীকাল মঙ্গলবার ১০ অক্টোবর ভোট গননা বা ফলাফল। বিহার বিধানসভা নির্বাচনের এক্সিট পোলের ফলাফল প্রকাশ্যে এসেছে। দু-একটি বাদে অধিকাংশ বুথ ফেরত সমীক্ষাই তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের ক্ষমতায় আসার ইঙ্গিত দিয়েছে। যদিও বিজেপি এখনই হার মানতে নারাজ। তারা দাবি করছে, সমস্ত এক্সিট পোলকে ভুল প্রমাণ করে বিহারে ফের সরকার গড়বে এনডিএ-ই। মনোজ তিওয়ারি, অশ্বিনীকুমার চৌবের মতো বিজেপি নেতারা বলছেন, আমরা এখনও নিশ্চিত বিহারে আমাদের সরকার হবে। সমীক্ষাতে দেখা গিয়েছে বিহার বাসি বিজেপি বিরোধী কিন্তু তার পরেও ক্ষমতাতে আসতে পারেন বিজেপি জোট।

বিজেপি আত্মবিশ্বাসের সত্যি কি কোন বাস্তব আছে ? হতে পারে কি অঘটন!

তিন দলের জোট উপেন্দ্র কুশওয়াহার দল আরএলএসপি, আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এমআইএম ও মায়াবতীর দল বিএসপি। তিন দলের মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী করা হয়েছে কুশওয়াহাকে। এর মধ্যে কুশওয়াহার ভিত্তি হল তাঁর নিজের জাতের পিছিয়ে পড়া শ্রেণির ভোট, এমআইএমের শক্তি মুসলিম ভোট। আর মায়বতীর দলিত সমাজ। রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই জোটের লক্ষ্যই হল, বিহারে বিজেপি-বিরোধী পিছিয়ে পড়া শ্রেণি, দলিত ও মসুলিম ভোটে ভাগ বসানো। যাতে ফায়দা পায় বিজেপি।

কুশওয়াহার লক্ষ্য নীতীশ তথা জেডিএই প্রার্থীদের যেনতেন ভাবে হারানো। নীতীশ ও তিনি দু’জনেই পিছিয়ে পড়া শ্রেণির প্রতিনিধি। তাই নীতীশের মতোই অতি পিছড়ে বর্গ বা ইবিসি শ্রেণির ভোটের জন্য ঝাঁপিয়েছেন উপেন্দ্র। অনেকের মতে, এতে লাভ হচ্ছে বিজেপিরই। নীতীশ অতি পিছড়ে শ্রেণির জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালু করলেও তাতে লাভ বিশেষ হয়নি। পাশাপাশি এঁদের বড় অংশই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। যাঁরা লকডাউনের ফলে রুটি-রুজি তো হারিয়েইছেন, উপরন্তু কোনও ভাবে প্রাণ বাঁচিয়ে ঘরে ফিরেছেন। মোদী সরকারের উপর এঁদের ক্ষোভ ভালই টের পাচ্ছে বিজেপি। ওই বিক্ষুব্ধ ভোট একত্রিত ভাবে কংগ্রেস-আরজেডি ও বামেদের মহাজোটের প্রার্থীর ঘরে গেলে বিজেপির পক্ষে জেতা আসন বাঁচানো কঠিন হবে। বিজেপির আশা, বিক্ষুব্ধদের একটি বড় অংশের কাছে উপেন্দ্র বিকল্প হয়ে উঠতে পারলে বিরোধী ভোটে ভাঙন ধরবেই। যার ফায়দা পাবে তারা। পাশাপাশি উপেন্দ্রর মূল লক্ষ্য নীতীশকে দুর্বল করা। জোটের অঙ্কে নীতীশ যত দুর্বল হবেন, ততই সুবিধে হবে বিজেপির। যদিও নয়া জোটের মুখপাত্র পি সুমনের দাবি, ‘‘আমরা কাউকে সাহায্য করতে লড়ছি না। দল জেতার লক্ষ্যে লড়ছে।’’

হায়দরাবাদের দল এমআইএমের বিরুদ্ধে পুরনো অভিযোগ রয়েছে যে, তারা ভোটমুখী রাজ্যে মুসলিম ভোট বিভাজনের লক্ষ্যেই প্রার্থী দিয়ে থাকে। যার ফায়দা পায় বিজেপি। অতীতে বিহারের লোকসভা নির্বাচন থেকে মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচন— সর্বত্রই এক ছবি দেখা গিয়েছে। মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় বিজেপির বিরুদ্ধে এমআইএম মুসলিম প্রার্থী দাঁড় করানোয় সংখ্যালঘু ভোট ভাগের ফায়দা পেয়েছে বিজেপি। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় সংখ্যালঘু প্রার্থী না দিয়েও আসন জিতে নিয়েছে বিজেপি। এক এমআইএম নেতার কথায়, ‘‘আমরা মূলত উত্তর বিহারের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে লড়ার পরিকল্পনা নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য পূর্ব ভারতে শক্তি বাড়ানো।’’ উত্তর বিহারের একাধিক আসনে গত বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছিল কংগ্রেস। সেগুলিতে এমআইএম লড়লে আখেরে মহাজোট দুর্বল হবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিহারে ১৭ শতাংশ মুসলিম। ২৪৩টা আসনের মধ্যে প্রায় ৫০টি আসনের হারজিত নির্ভর করে মুসলিমদের উপর। এখানে মুসলিম ভোটার সংখ্যাগুরু। মুসলিম প্রীতি, বিজেপি বিরোধিতার উপর মীম পাটি কিছু ভোট অবশ্যই কাটবে। মুসলিম ভোট ভাগ করতে ৩২ আসনে পার্থী দিয়েছেন আসাদউদ্দিন। উক্ত এলাকার আসল গুলির দিকে তাকিয়ে আছেন বিজেপি।

গত ছ’বছরের মোদী শাসনে ক্ষুব্ধ দলিত সমাজের বড় অংশ। হাথরসের ঘটনা সেই ক্ষোভে আরও ইন্ধন দিয়েছে। বিহারের প্রায় ১৮-২০ শতাংশ দলিত ভোট রয়েছে। কংগ্রেস ও আরজেডির নিজস্ব ভোটের পাশাপাশি দলিত ভোটের একটি বড় অংশ মহাজোটকে সমর্থন করলে এনডিএ-র ক্ষমতা হারানো অনেকাংশেই নিশ্চিত। অনেকের মতে, সেই ভোটে ভাঙন ধরাতেই মাঠে নেমেছেন মায়াবতী। এখানে দলিত ভোট ভাগ হয়ে বিজেপি লাভবান হবে অবশ্যই।

বিগত কয়েকটি বিধানসভা ও লোকসভা ভোটে দেখা গিয়েছে মুসলিম এলাকা গুলোতে বিজেপি জয়লাভ করছে। এর মূল কারন মীম পাটির মুসলিম ভোট বিভাজন। মুসলিম ও দলিত ভোট বিভাজন বিজেপির জয়লাভের পথ তৈরি করতে পারে। দেখার বিষয় ভোটার বা জনগণ সচেতন ভাবে ভোট দিয়েছেন নাকি স্বজাতি নেতাদের কথাতে প্রভাবিত হয়েছে। মায়াবীর BSP ও আসাদউদ্দিনের MIM পাটি ২০২০ বিহার বিধানসভা ভোটে বিজেপি B-টিম হিসাবে NDA জোটকে ক্ষমতাতে আবার নিয়ে আসতেই পারে। বিজেপি জোট ক্ষমতাতে আসলে অবাক হওয়ার কিছু নাই!