গুজরাটে নাইট কারফিউয়ে বিজেপি বিধায়কের ছেলের পথ আটকানোই চাকরি থেকে বহিস্কার!

নিউজ ডেস্ক : বিজেপি মানেই আইন অমান্য। বিজেপি মানেই আইনে উর্ধে। নাইট কারফিউয়ের নিয়ম ভেঙে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছিলেন মন্ত্রীর ছেলে। তাও আবার মাস্ক ছাড়াই গাড়ি চালাচ্ছিলেন তিনি। অভিযোগ, পুলিশ আটকাতেই ক্ষমতা দেখাতে শুরু করেন তিনি। এমনকী, বাবার নাম করে ওই মহিলা পুলিশ কর্মীকে হুমকিও দেন। সেই ঘটনায় রবিবার গুজরাট পুলিশ রাজ্যের মন্ত্রীর ছেলে ও তাঁর দুই বন্ধুকে গ্রেপ্তার করল। উপর মহলের শাস্তির খাঁড়া এসে পড়েছে মহিলা পুলিশটির উপর, হয়েছেন বদলি। তবে তদন্ত শুরু না হওয়ার অভিযোগ তুলে ওই মহিলা পুলিশ আধিকারিক আগেই চাকরি থেকে ইস্তাফা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী কথা নিজের দলের বিষয়ক পালন করছেন না।

বুধবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ সুরাটের রাস্তায় বেরিয়েছিলেন গুজরাটের স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী তথা বিধায়ক কুমার কানানির ছেলে প্রকাশ কানানি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর দুই বন্ধু। গুজরাটে নাইট কারফিউ চলছে। সেই নিয়ম ভেঙে রাস্তায় বের হওয়ায় গাড়িটি আটকান মহিলা কনস্টেবল সুনীতা যাদব। সেই সময় ওই পুলিশ কর্মীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে প্রকাশের বিরুদ্ধে। সেই সময়ের একটি অভিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে. তাতে প্রকাশকে হুমকি দিতে শোনা গিয়েছে। অডিও ক্লিপ অনুযায়ী, প্রকাশ সুনীতে বলেন আমার ক্ষমতা জানেন, চাইলে আপনাকে এখানে ৩৬৫ দিন দাঁড় করিয়ে রাখতে পারি। পালটা সুনীতা বলেন, “আমি আপনার চাকর নই, যে আপরি এমন ব্যবহার করবেন। দুপক্ষের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র বাদানুবাদ চলে”। সুনীতার অভিযোগ, তিনি ভারচা রোড পুলিশ স্টেশনে ফোন করে গোটা ঘটনার কথা জানালে অভিযুক্তদের ছেড়ে দিয়ে বলা হয়। এরপর ওই মহিলা কনস্টেবলকে ইস্তাফা দিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। যদিও এসিপি সি কে প্যাটেল জানিয়েছেন সুনীতা ছুটিতে আছেন।

রবিবার জানা যায়, সুনীতা যাদবকে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে বদলি করা হয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পরেই সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা। তাদের দাবি, বিজেপি শাসনে আইন মেনে কাজ করলে এভাবেই বদলি করা হয়। যাঁরা নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের এভাবেই খেসারত দিতে হয়। অন্যদিকে নেতা-মন্ত্রীদের ছেলেরা আইন ভেঙেই চলেছে। পুলিশকে তারা নিজেদের সম্পত্তি বলে মনে করছে।

সূত্রের খবর, বুধবার সুনীতা যাদব নামের ওই কনস্টেবলের এই কাজে ব্যাপক হইচই পড়ে যায় সুরাতে। এই ঘটনার ফলেই ওই মহিলা কনস্টেবলকে বদলি করা হচ্ছে বলে খবর। এই খবর ছড়ানোর পরে ফের শুরু হয়েছে সমালোচনা। বিরোধীদের অভিযোগ প্রশাসনকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। রাজনীতির চাপে পুলিশের হাত বেঁধে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ কংগ্রেসের।

শুধু বিরোধীরা নয়, এই ঘটনায় সমালোচনা শুরু হয়েছে সাধারণ মানুষদের তরফেও। তাঁদের অভিযোগ, যাঁরা আইন বাঁচানোর চেষ্টা করছেন, তাঁদেরই অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। সরকার নিজেই যে নিয়ম বানিয়েছে, সেই নিয়ম তাদেরই পরিবারের লোক মানছে না। আর তা থামাতে গেলে তার খেসারত দিতে হচ্ছে সুনীতা যাদবের মতো কনস্টেবলদের। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।