হাওড়াতে নবীর অপমানের প্রতিবাদ বিক্ষোভে ‘আল-কায়দা’ যোগের অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্ট মামলা!

নিউজ ডেস্ক : নবীর নামে কুৎসার প্রতিবাদে রাস্তাতে নামেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। বৃহস্পতিবার প্রায় ৬ ঘন্টা অবরুদ্ধ ছিল হাওডার অঙ্কুরহাটির বম্বে রোড। অবরোধ তুলতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুরোধ করেন। স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল কয়েকটি জেলার যান চলাচল। সেই ঘটনায় কি জঙ্গি গোষ্ঠী আল কায়েদার যোগ রয়েছে, এই প্রশ্ন তুলেই মামলা হল কলকাতা হাইকোর্টে।

গতকাল ৯ জুন হাওড়াতে যে অবরোধ চলে, তার মুলে আল কায়েদা! আইনজীবী দেবদত্ত মাঝি এই দাবী করেছেন। প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানান আইনজীবী দেবদত্ত মাঝি। তিনি এই ঘটনায় বিদেশি মদত রয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে জাতীয় তদন্ত সংস্থা তথা এনআইএ-কে দিয়ে তদন্ত করানোর আর্জি জানিয়েছেন। ওই মামলা গ্রহণ করেছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব এবং রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে। আগামী সপ্তাহে মামলার শুনানি হতে পারে। পিটিশনে বলা হয়েছে, আল কায়েদার নজরে রয়েছে ভারত। একাধিক নথি দিয়ে দাবি করা হয়েছে, দেশকে অশান্ত করতে বড়সড় ষড়যন্ত্র চলছে।

গত মে মাসে পয়গম্বরকে নিয়ে দিল্লির বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ডোমজুড়ের অঙ্কুরহাটি এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তা অবরোধ করা হয়। যার জেরে জাতীয় সড়কের উপর আটকে পড়ে প্রচুর গাড়ি। অবরোধ শুরু হয় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা নাগাদ। টায়ার জ্বালিয়ে, কুশপুতুল পুড়িয়ে ১১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। ওই জাতীয় সড়ক দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে সংযোগকারী অন্যতম একটি রাস্তা। ফলে গোটা এলাকার পাশাপাশিই দক্ষিণবঙ্গে হাওড়ার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতেও যানজটের প্রভাব পড়ে। এর জেরে দুর্ভোগের শিকার হন সাধারণ মানুষ। বিকেলের পর জ্যাম বাড়তে বাড়তে তা দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে চলে যাসে। মুখ্যমন্ত্রী অবরোধ তুলে নেওয়ার আর্জি জানান। তিনি বলেন, বিজেপির মুখপাত্ররা জঘন্য কাজ করেছেন। আমিও কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছি। কিন্তু এই নয় যে, রাস্তা আটকে মানুষকে দুর্ভোগে ফেলা যাবে। তার পরেও কয়েক ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলে। আন্দোলন, প্রতিবাদ ছিলো শান্তিপূর্ণ।

নবীর অপমানের দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হয়, নূপুর শর্মার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি পাটি। বিজেপির বিভিন্ন নেতা প্রকাশ্যে নূপুর শর্মাকে সাপোর্ট করছে। আরব বিশ্ব প্রতিবাদ করলে, চাপে পড়ে নূপুর শর্মা ও নবীন জিন্দালকে পাটি থেকে বহিস্কার করে বিজেপি। যখন চারিদিকে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবী উঠছে তখন, উল্টে তার নিরাপত্তা বাড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রী মোদী। নূপুর ও নবীন জিন্দালের গ্রফতারের দাবীতে ভারত সহ বাংলাতে প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয়েছে।

বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠছে, মুসলিমদের আন্দোলন ও প্রতিবাদকে দমাতে আলকায়দা যোগের অভিযোগ নয় তো !