চোপড়ার ঘটনা ধর্ষণের নয়,’অনার কিলিং’! কিশোর হত্যাতে মাম্পির বাবা ও দুই দাদা গ্রেফতার

সাইফুদ্দিন মল্লিক : উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার কিশোরীর কথিত ধর্ষণ ও হত্যা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি উত্তাল। কিশোরীর হত্যা কান্ডতে সোমবার যুক্ত হলো নতুন অধ্যায়। অভিযুক্ত কিশোরের লাশ পাওয়া গেল সোনারপুর গ্রামপঞ্চায়েতের ভৈষপিটা এলাকায় যে স্থানে কিশোরীর মৃতদেহ মিলেছিল, এ দিন সকালে তার থেকে মাত্র ৫০ ফুট দূরত্বে একটি পুকুর থেকে পাওয়া গিয়েছে অভিযুক্ত যুবকের নিথর দেহ। কিশোর ফিরোজের( বছর কুড়ি বয়েস) লাশ উদ্ধারে, কিশোরীকে ধর্ষণ করে বিষ খাওয়ার ঘটান অন্যদিকে মোড় নিল। অনুমেয়, চক্রান্ত করে দুইজনকে হত্যা করা হয়েছেন।

এ বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৬ বছরের কিশোরী মাম্পি সিংহকে রবিবার ভোর-সকালে অচৈতন্য অবস্থাতে ভৈষপিটা এলাকার রাস্তার ধারের পুকুর পাড়ে দেখা যায়। প্রথমে চোপড়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রে , তারপর ওখান থেকে সদর হাসপাতাল ইসলামপুরে নিয়ে যাওয়ায় হয়। শেষ রক্ষা হয়নি। প্রাথমিক ভাবে বলা হয় বিষক্রিয়াতে মৃত্যু হয় কিশোরীর। মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার দুপুর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে চোপড়া। এই মর্মান্তিক ঘটনার শোকাহত গোটা এলাকা। পরিবার ও এলাকাবাসী অভিযোগ করেন গণ-ধর্ষণ করে, বিষ খাইয়ে খুন করা হয়েছে মাম্পিকে। জেলা পর্যায়ের ও স্থানীয় বিজেপি নেতা কর্মী ও সমর্থকরা দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে এরপরেই রবিবার বিকেলে জাতীয় সড়ক অবরোধ শুরু হয়। অবরোধ তুলতে গিয়ে আক্রান্ত হয় পুলিশ। শুরু হয় পুলিশ-জনতা খণ্ডযুদ্ধ। সরকারি বাস, পুলিশের তিনটি গাড়িসহ ছয়টি গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন লাগানো হয়। এই ঘটনায় মোট ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রবিবার রাত্রি অতটাতে পুলিশের তরফ থেকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। তাতে পরিষ্কার উলেখ্য কিশোরীকে ধর্ষণ বা কোন রকম শারীরিক অত্যাচার করা হয়নি। ইসলামপুর জেলা পুলিশ সুপার শচীন মক্কার বিবৃতিতে বলেছেন, শরীরে বিষক্রিয়ার কারণেই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি তিনি এও জানিয়েছেন, ধর্ষণের কোনও প্রমাণ বা সে ধরনের কোনও কিছু কিশোরীর ময়নাতদন্তের রিপোর্টে পাওয়া যায়নি। ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে ময়না তদন্ত করা হয়। চূড়ান্ত ও রাসায়নিক পরীক্ষার ও রিপোর্টে জন্য প্রয়োজনই অঙ্গ সংরক্ষণ করা হয়েছে।

ময়নাতদন্তের পুলিশ রিপোর্ট  : https://www.facebook.com/692583847600758/posts/1496104957248639/

এমনিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলা নিয়ে ব্যস্ত জেলা প্রশাসন ও পুলিশের কর্তারা। তার মধ্যে হঠাৎই এ ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রবিবার বিকেল থেকেই স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে উত্তেজনা প্রশমনে সক্রিয় হয়েছেন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা। এ ঘটনায় রাজনৈতিক রঙ লাগিয়ে যাতে কেউ অন্য মাত্রা দেওয়ার চেষ্টা না করেন সে জন্যও প্রশাসনের তরফে বার্তা দেওয়া হচ্ছে। কিশোরীর মৃত্য ঘটনাতে রবিবারই চারজনকে আটক করে পুলিশ।

সোমবার সকালে কিশোরী হত্যার ঘটনাতে নতুন রহস্য ও অধ্যায়ের সূচনা হয়। যে খানে কিশোরীর দেহ পাওয়া গিয়েছিল, তার ৫০ ফুট দূরত্বে পুকুর থেকে উদ্ধার কথিত অভিযুক্ত কিশোরের দেহ। গতকাল সোমবার সকল থেকে আবার নতুন করে চাঞ্চল্য সৃস্টি হয়। সোনারপুর গ্রামপঞ্চায়েত কালিয়াগছ, বদনামপুর, চতুরাগাছ এলাকাতে নতুন করে ক্ষোভ বিক্ষোভ জন্মায়। তারা স্থানীয় রাস্তা অবরোধ করে। কিশোর ও কিশোরীর হত্যা উপযুক্ত সঠিক তদন্তের দাবি করেন। স্থানীয় মানুষ বলেন মাম্পি ও ফিরোজের হত্যাকারীরা একই ব্যক্তি। ইসলামপুর পুলিশের এক পদস্থ অফিসার সোমবার সকালে বলেন, কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনা যে মর্মান্তিক তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। অভিযুক্ত যুবকের দেহ যে ভাবে পাওয়া গিয়েছে তাও রহস্যজনক। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে। সাধারণ মানুষের উচিত উত্তেজনা না বাড়িয়ে তদন্তে সাহায্য করা।

মাম্পি ও ফিরোজকে হত্যা করা হয়েছে। এবং এদের চক্রান্ত করে মারা হয়েছে। তার কতগুলি প্রমান তথ্য অনুসন্ধান পাওয়া যাচ্ছে ঘটনা বিশ্লেষণ করলে।

প্রথমত : রাস্তার ধারে পড়ে থাকা মাম্পির দেহের কাছ থেকে একটি আধার কার্ড, একটি সাইকেল, একটি ছাতা, দুটি মোবাইল পাওয়া গেছে। কথিত মাম্পিকে গণ-ধর্ষণ করে বিষ খাইয়ে মারার চেষ্ঠা করা হয়েছে। যারা ধর্ষণ বা গণ-ধর্ষণ করেছে তারা উক্ত সামগ্রী ফেলে রেখে যাবে কেনো ? অপরাধী ধরা দিতে সামগ্রী গুলি ফেলে গেছে ধরে নিতে হয়। বিশ্বে প্রথম ঘটবে অপরাধী জঘণ্য অপরাধ করে নিজেই ধরা দিতে পরিচয় পত্র এবং ব্যবহার সামগ্রী ফেলে দিয়ে গেছে। বিষয়টি সিনেমার সাজানো চিত্রনাট্যের মতো।

দ্বিতীয়ত : ধর্ষণ ও হত্যা নিয়ে রাজ্য তোলপাড়, এমনকি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রিপোর্ট, CBI তদন্তের দাবি। কিন্তু রহস্য ভাবে তার FIR করা হয়নি। মেয়ের পরিবার বা বাড়ির লোক থানাতে লিখিত অভিযোগ করেনি। রবিবার সোমবার মঙ্গলবার অতিক্রান্ত কিশোরীর হত্যাকান্ডতে কোন লিখিত অভিযোগ করা হলোনা কেনো ? বিভন্ন সংবাদ মধ্য এবং টিভি মিডিয়া সূত্রে খবর রবিবার অতিক্রান্ত কিশোরীর হত্যাকান্ডতে পরিবারের পক্ষ থেকে কোন লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল না। এটা রহস্য বা সন্দেহ তৈরি করে। তাহলে ধরে নিতে হয়, আসলো ঘটনা অন্য কিছু লুকায়িত আছে বলেই পরিবার FIR এড়িয়ে গিয়েছিল। কেঁচে খুলতে কেউটে বাহির না হয়, তাই হয়তো আইনে দ্বারস্থ হয়নি পরিবার।

তৃতীয়ত : কথিত ধর্ষণ হত্যাকান্ড হয়েছে, সন্দেহভাজন অভিযুক্তদের নামে FIR হবে। পুলিশ অভিযুক্তদের ধরছে না, টালবাহানা করছে, অপরাধী ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাহলে আন্দোলন হবে, রাস্তা অবরোধ হবে, বিরোধী পাটি রাস্তাতে নামবে। কিন্তু চোপড়াতে ঘটেছে সম্পূর্ন উল্টো, হয়তো ইতিহাসে প্রথম এমন ঘটলো। থানাতে কোন অভিযোগ নাই রাজ্য ও জাতীয় সড়ক অবরোধ, টাওয়ার জ্বালানো, বাস-লরি এবং পুলিশের গাড়িতে আগুন। পুলিশ জনতা খন্ডযুদ্ধ, পুলিশকে আক্রমণ করে ইট বৃষ্টি। পুলিশ-জনতা খন্ডযুদ্ধ, বিক্ষোভ কর্মসূচি, গাড়িতে আগুন এবং এতে সরাসরি ভাবে বিজেপির যুক্ত হয়ে যাওয়ার সব কিছু পূর্ব পরিকল্পনার বাস্তব রূপ বলে মনে হয়!

চতুর্থত : ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে রেপ নয়, বিষক্রিয়াতে মৃত্যু। কিন্তু বিজেপির ছোট-বড়ো কোন নেতা সেটা মানতে চাইছে না। তারা ধর্ষণ ও গণ-ধর্ষণ বলছেন। উক্ত দাবি কিন্তু মেয়ের পরিবার করছে করছেন না, তারা তো FIR টুকুও করেনি। কোন প্রমান ছাড়া কেমন করে মিথ্যা দাবি করে সমগ্র রাজ্য বিক্ষোভ করলো বিজেপি। কথিত অভিযুক্ত মুসলিম, আর এটা নিয়ে ধর্মীয় সুড়সুড়ি তৈরি করে ভোটের ময়দান গরম করা। বিজেপির হিন্দু মুসলিম তাস, হিন্দু নারীদের উপর মুসলিম অত্যাচারের অস্ত্রকে হাতিয়ার করে ধর্মীয় বিভাজন দ্বারা হিন্দুত্ব ভোট বাড়ানো কৌশল নিয়েছে বিজেপি। সত্যি যদি কিশোরী পরিবারের পাসে দাঁড়াত, তাহলে প্রথমে পরিবারকে সাথে নিয়ে FIR করতো। সেটা করেনি বিজেপি পাটি এবং কোন নেতা কর্মী।

পঞ্চমত : ঘটনাতে রহস্য তৈরি ও নতুন অধ্যায় যুক্ত। কথিত অভিযুক্ত কিশোর ফিরোজ আলির লাস উদ্ধার। যে খানে মাম্পির দেহ পড়ে ছিল, সেই স্থানের ৫০ ফুট দূরের পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থাতে ফিরোজের লাশ পাওয়ায়। মাম্পির মৃত্যু হয় রবিবার সকাল আটটার দিকে। ফিরোজের লাশ পাওয়ায় সোমবার সকালে। অন্তত একদিক আগে মৃত্যু হলে তবেই লাশ ভাসবে পানিতে। এর থেকে প্রমান হয় মাম্পির হত্যা ও কথিত ধর্ষণে গল্প ফিরোজ করেনি। আর একটি বিষয় পরিস্কার হয়, ফিরোজকে হত্যা করা হয়েছে মাম্পির বিষ প্রয়োগের বা খাওয়ার আগে। এর থেকে প্রশ্ন উঠছে, মাম্পি ধর্ষণের গল্পটি সাজানো বা মিথ্যা নয়তো ?

ষষ্ঠত : ফেসবুক ও সোশ্যাল মিডিয়াতে মাম্মির ধর্ষণ ও খুনে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিনের ফাঁসি চাই বলে ট্রেন্ড ও প্রতিবাদ শুরু হয়। বিজেপির IT সেল থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই নাসিরউদ্দিনের ফাঁসি চাই এবং মাম্পি ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই বলে প্রতিবাদের ঝড় তোলে। কিশোরীর দেহের পাস থেকে ফিরোজের আধার কার্ড ও দুটি মোবাইল পাওয়া গিয়েছিল, তার পরেও ভুল নাম কিভাবে প্রচার হলো সোশ্যাল মিডিয়াতে ? বিজেপির IT সেল এবং হোয়াটস অ্যাপ বিশ্ব বিদ্যালয় চক্রান্ত স্বরূপ যেমন ভাবে ফেক নিউজ ছড়ায়, ঠিক সেই ভাবেই চোপড়া ধর্ষণ ও হত্যাতেও করা হয়েছে।

এলাকা থেকে খবর, ফিরোজ ও মাম্পি দুজনে প্রেমিক-প্রেমিকা। দুই বছর ধরে ভালোবাসা ছিলেন ওদের। দুই পরিবার জানতো ভালোবাসার বিষয়টি। মাম্পির বাড়িতে চাপ দেওয়া হচ্ছিল সম্পর্কটি ভাঙ্গতে। সম্প্রতি মাম্পি বাড়িতে বলেছিল আমি ফিরোজকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করবো না। এলাকাবাসী বলেন, শনিবার রাত্রিতে ফিরোজকে হত্যা করে মাম্পির পরিবার। কিশোরীর হত্যা বা বিষ প্রয়োগে সম্ভাব্য অনুমান, “ফিরোজকে মেরে ফেলা হয়েছে খবরটি মাম্পি জানতে পারে। খবরটি জেনে মাম্পি আত্মহত্যা করেছে, বা ফিরোজের হত্যার খবর বাইরে প্রচার করবে ফেলবে মাম্পি, তাই পরিবার বিষ খাইয়ে দিয়েছে।” ফিরোজের গ্রাম কালিয়াগছ থেকে মাম্পির গ্রামের দূরত্ব তিন কিমি। যেখানে দুই জনের দেহ পাওয়া গেছে সেটা ভৈষপিটা গ্রাম, এটা মাম্পির বাড়ি থেকে পাঁচশো মিটার দূরে। আদতে এটা হিন্দি বলয়ের মতো ‘অনার কিলিং’- এর ঘটনা মনে হচ্ছে।

সোমবার বিকেলে কিশোরীর বাড়িতে যান মন্ত্রী গৌতম দেব। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই তিনি এখানে এসেছেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, “এই ঘটনা কী ভাবে ঘটল তার যথাযথ তদন্ত হবে। এর পিছনে যদি কোনও দুষ্কৃতী থেকে থাকে, তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে গৌতম দেবের উদ্দেশে কিশোরীর জেঠু বলেন, “আমরা চাই না আর কারও মেয়ের এ ভাবে মৃত্যু হোক। প্রশাসন যেন সেটা দেখে।” মাটিগাড়ার বিধায়কের উদ্দেশে কিশোরীর জেঠু আরও বলেন, “যে ভাবে হিংসার আগুন জ্বালানো হচ্ছে আমাদের মেয়ের মৃত্যু নিয়ে, আমরা তা চাই না। আমরা চাই যথাযথ তদন্ত করে প্রশাসন যেন অপরাধীকে শাস্তি দেয়।” বিজেপি মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করেছে সেটা কিশোরীর পরিবারও স্বীকার করছে। ঘটনার সাথে মুসলিম নাম উঠে এসেছে, বিজেপি ধর্মীয় উস্কানির রাজনীতি করতে রাস্তাতে নেমে পড়েছে।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ঘটনা সম্পর্কে প্রতিক্রিয়াতে বলেন, “চোপড়া দুস্কৃতকারীদের আড্ডাতে পরিনত এবং এখানে দেশবিরোধীদের আখড়া। এদের লালনপালন করছে তৃনমূল।” উত্তর দিনাজপুর ও চোপড়ার মুসলিমরা দেশবিরোধী কাজ করছে, এটা পরিস্কার বলিলেন দিলীপ ঘোষ। ধর্মীয় উস্কানি ও সাম্প্রদায়িক বিষ ছাড়লেন দিলীপ বাবু। মুসলিমরা যেকোন ঘটান করে সেটা দেশবিরোধী!

মাম্পি ও ফিরোজ হত্যাকান্ডে চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসা করে পুলিশ। এদের মধ্যে কিশোরী বাবা ও দুই দাদাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কথিত কিশোরীকে ‘ধর্ষণ ও খুনে’ অভিযুক্ত ফিরোজ আলিকে হত্যার অভিযোগে মৃতার বাবা এবং দুই দাদাকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত। মঙ্গলবার ধৃতদের ইসলামপুর মহকুমার আদালতে তোলা হলে অতিরিক্ত বিচারবিভাগীয় আদালতের বিচারক মহুয়া রায় বসু এই নিদের্শ দেন। আদালতের সরকারি আইনজীবী সঞ্জয় ভাওয়াল বলেন, “ফিরোজ আলিকে অপহরণ করে খুনের অভিযোগে ধৃত মধু সিংহ এবং তাঁর দুই ছেলে প্রিয়নাথ ওরফে কৃষ্ণ সিংহ ও হর্ষনাথ সিংহের বিরুদ্ধে অপহরণ করে খুন করে প্রমাণ লোপাটের মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, মৃত ফিরোজ আলির বাবা আমিরুল আলির অভিযোগের ভিত্তিতেই মৃতা কিশোরীর বাবা ও দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কিশোরী মাম্পি ও কিশোর ফিরোজকে হত্যা, কে বা কারা করেছে তার তদন্ত পুলিশ করছেন। উক্ত হত্যার ঘটনাতে যেই ধর্মের লোক জড়িত, তাদের উপযুক্ত শাস্তি চাই। পুলিশ, প্রশাসন, আইন, আদালত আছে জড়িতদের বিচার করে শাস্তি দিবেন। আমরা কোন ভাবে, কোন রকম প্ররোচনা ও উস্কানিতে হাতে আইন তুলে নিবো না এবং সমাজে শান্তি বজায় রাখবো।