রাজীবকে দলে ফেরানোতে তৃণমূলের ভিতরে দ্বন্দ্ব, সাংসদ কল্যাণ থেকে কর্মীরা ক্ষোভে উগরে দিলেন !

নিউজ ডেস্ক : ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল বিপুল ভোটে নির্বাচন জেতার পরপরই তৃণমল থেকে যাওয়া বিজেপির নেতাদের দলে ফিরাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা এবং ভাইপো অভিষেক। হেবিয়েট মুকুলকে দলে ফিরিয়ে চকম শুরু করেছিল তৃণমূল, সাথে বহু নেতাও দলে ফিরেছে, দেওয়া হয়েছে দলে। সেই ধারা অব্যহত রেখেই উপনির্বাচন শেষ হতেই ঘরওয়াপসি হল বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন সেচ মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তবে দলের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে এদিন দলীয় অনুশাসনের বৃত্তে থেকেই এক ভিডিওবার্তায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় কবিতার লাইন- ‘কেউ কথা রাখে নি’ শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে। ঠিক কী বলেছেন কল্যাণ?

কল্যাণ বলেছেন, “মমতাদি নির্বাচনী প্রচারে ডোমজুড়ে বলেছিলেন যে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের তিন চারটে বাড়ি আছে গড়িয়াহাটে, তার টাকার লেনদেন চলছিল দুবাইতে, তা সত্ত্বেও কেন নেওয়া হল সেটা শীর্ষ নেতৃত্ব বলতে পারবেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন দলের কোনও কর্মীর মনে আঘাত দিয়ে বিশ্বাসঘাতককে দলে ফেরত নেওয়া হবে না। আমি একজন দলের কর্মী। তৃণমূলে থাকতে হলে দলের শীর্ষ নেতারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন তা মানতে হবে। তবে আমি জানি না এরকম একটা টপ টু বটম কোরাপটেড লোককে কেন দলে জয়েন করানো হল।”

একটি ফেসবুক কমেন্টও নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন কল্যাণ। সেখানে তিনি বলেছেন যে তাঁকে মধ্যরাত্রে তৃণমূল কর্মীদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে হয়েছে। রাজীব যখন কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করে তৃণমূল কর্মীদের মার খাইয়েছেন বলেও এদিন দাবি করেন কল্যাণ। প্রসঙ্গত, ডোমজুর বিধানসভা এলাকাটি কল্যাণের লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে।

শুধু নেতা নয়, সাধারণ তৃণমূল কর্মীরাও দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে, ক্ষোভ প্রকাশ করছেন প্রকাশ্যে। ভোটের আগে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাওয়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। তারাই ভোটের পর বিজেপির শোচনীয় পরাজয়ের পর তৃণমূলের ফিরে আসছে। তৃণমূলের ফিরে আসার বিষটা ভালোভাবে গ্রহণ করছে না সাধারণ তৃণমূল কর্মীরাও। সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে রাজীবকে দলে ফেরানো নিয়ে। বিজেপি নেতা বাবুলকে তৃণমূলে স্থান দেওয়াতেও তৃণমূল কর্মীরা সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রতিবাদ করেছিল। কর্মীরা বলছেন, বিজেপির সাম্প্রদায়িক নেতাদের দলে ঢুকিয়ে দলের লাভ হবে কি ?