SSC-এর পর প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, ক্ষমতাতে চাকরি, এক রায়ে চাকরির গেল ২৬৯ জনের!

নিউজ ডেস্ক : বেআইনি শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে রাজ্যে উত্তাল। এসএসসি-র (SSC) পর এবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগেও CBI তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুধু তাই নয়, টেট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ২৬৯ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হল। তাদের সকলেরই বেতন বন্ধ করাও নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। একইসঙ্গে সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে প্রাইমারি বোর্ডের সেক্রেটারি রত্না চক্রবর্তী বাগচী এবং প্রেসিডেন্ট মানিক ভট্টাচার্যকে CBI দফতরে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের এই মামলার শুনানি হয়। শুনানি চলাকালীন বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, টেট উত্তীর্ণ না হয়েও কী ভাবে চাকরি করছেন? ২০১৪ সালের এই প্রাথমিক টেট পরীক্ষার পর ২০১৭ সালে দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। এই তালিকাতেই একাধিক গড়মিল রয়ে৯ছে বলে পর্যবেক্ষণ আদালতের। তার ভিত্তিতেই ২৬৯ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। তারা কেউই আর মঙ্গলবার থেকে স্কুলে ঢুকতে পারবেনা।

এই মর্মে ন্যাশনাল ইনফরমেটিভ সেন্টারকে নিয়োগের মামলা সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য CBI-এর হাতে তুলে দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই মামলা সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র সংরক্ষণ করে রাখার কথাও বলেছে আদালত। গোটা বিষয়টিকে বিচারাধীন আখ্যা দিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।

উল্লেখ্য, টেট দুর্নীতি নিয়ে ২০১৯ সালে এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলা করেছিলেন রমেশ মালি নামে এক ব্যক্তি। তাঁর অভিযোগ ছিল, “২০১৪ সালে টেট ফেল করেছিলেন সুব্রত মণ্ডল। কিন্তু, টেট ফেল করেও চাকরি পেয়েছেন তিনি।” সম্প্রতি SSC নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তোলপাড় পড়ে গিয়েছে রাজ্যে। এই নিয়োগ সংক্রান্ত একটি মামলার প্রেক্ষিতে রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীকে চাকরি থেকে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট । কেবলমাত্র অঙ্কিতা অধিকারীই নয়, সিদ্দিক গাজি নামে এক অঙ্ক শিক্ষকের চাকরি বাতিলেরও নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। তিনি মুর্শিদাবাদের সলুয়াডাঙা উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। কলকাতা হাইকোর্টের রাজশেখর মান্থার বেঞ্চ তাঁর চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেয়।