বিহার ও উত্তর প্রদেশে মৃত্যু মিছিল! বজ্রপাতে বিহারে ৮৩ ও উত্তর প্রদেশে ২৪ জনের মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক : বিহার এবং উত্তর প্রদেশ থেকে মর্মান্তিক খবর। যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশে বৃহস্পতিবার বজ্রপাতে কমপক্ষে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে নীতীশ কুমারের বিহারে বজ্রপাতের বলি ৮৩ জন। মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। একই অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ বিহারে দিচ্ছেন নীতীশ কুমার।

রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, এদিন বজ্রবিদ্যুতে ৮৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জন মারা গিয়েছেন গোপালগঞ্জ জেলায়। সরকারি একটি সূত্র জানাচ্ছে, মধুবনী ও নবাদা জেলায় ৮ জন করে মারা গিয়েছেন। ভাগলপুর ও সিওয়ানে বজ্রপাতের বলি ৬ জন করে। বাঙ্কা, দ্বারভাঙা ও পূর্ব চম্পারণ জেলায় পাঁচ জন করে মারা গিয়েছেন। এছাড়া খাগারিয়া ও ঔরঙ্গাবাদ জেলায় বজ্রপাতে ৩ জন করে মারা গিয়েছেন। জেহানাবাদ, কিষানগঞ্জ, পশ্চিম চম্পারণ, জামুই, পূর্ণিয়া, সুপাউল, কৈমুর ও বক্সারে ২ জন করে মারা গিয়েছেন। সরান, শিবহর, সমস্তিপুর, মাধেপুরা ও সীতামারিতে এখনও পর্যন্ত একজন করে মারা গিয়েছেন বলে সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সরকারি সূত্রে খবর, উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া ও প্রয়াগরাজেই সবথেকে বেশি মৃত্যু হয়েছে। দেওরিয়ায় বাজ পড়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্য দিকে, প্রয়াগরাজে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। উত্তরপ্রদেশের ত্রাণ কমিশনার সঞ্জয় গোয়াল জানান, দেওরিয়া ও প্রয়াগরাজ ছাড়াও কুশিনগর, ফতেহপুর ও উন্নাও জেলায় একজন করে মারা গিয়েছেন। বারাবাঙ্কিতে মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। আম্বেদকর নগরে মারা গিয়েছেন ৩ জন। বলরামপুরে মৃত্যু হয়েছে আরও একজনের।

গত বছর জুলাইয়ে উত্তরপ্রদেশে বজ্রবিদ্যুতে কমপক্ষে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এই ৩৭ জনের মধ্যে ১৪ জনই ছিলেন কানপুর ও ফতেপুরের বাসিন্দা। এই দু’টি অঞ্চলে ৭ জন করে মারা যায়। ঝাঁসিতে মৃত্যু হয়েছিল পাঁচ জনের। হামিরপুরে তিন জন, জালাউনে চার জন, গাজিপুরে দু’জন এবং জানুপুর, প্রতাপগড়, কানপুর দেহাত এবং চিত্রকূটে প্রাণ হারিয়েছেন মোট চার জন। ওই বছরেরই জুনে উত্তরপ্রদেশে প্রবল ধূলিঝড় এবং বজ্রপাতের কবলে পড়ে কমপক্ষে ১৯ জন প্রাণ হারান। আহত হন আরও অন্তত ৪৮ জন।

দুই রাজ্যে মৃতের খবর আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা।