দলিত ও আধিবাসীদের অধিকার রক্ষার্থে ১৭ দফা দাবিতে বাঁকুড়ার DM অফিসে ডেপুটেশন সংস্কৃতিক মঞ্চের

নিজস্ব সংবাদদাতা : অবহেলিত,বঞ্চিত, শোষিত আদিবাসী ও দলিতের অধিকার রক্ষা করতে বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চ’, অল ইন্ডিয়া কনফেডারেশন অফ এসসি এসটি অরগানাইজেশনের ডাকে বাঁকুড়া জেলার ডিএম অফিস অভিযান কর্মসূচি ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হল, ২৮-শে সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার। ১৭টি দাবি সমূহ আদায়ে, ডিএম অফিসে ডেপুটেশন দেওয়ার হয়। প্রায় ১০ হাজার মানুষ এই মহামিছিলে অংশগ্রহণ করেন। সম্প্রীতি কেন্দ্রের মোদি সরকার নতুন নতুন আইন তৈরির মাধ্যমে আধিবাসীদের জমি অধিগ্রহণ করে শিল্পপতিদের হাতে তুলে দিচ্ছে। ফলে বহু আধিবাসী বসতবাড়ি, চাষের জমি হারিয়ে রিফিউজিতে পরিণত হয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

বিভিন্ন দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হল-
১. বন অধিকার আইন অনুযায়ী গ্রাম সভা কে জঙ্গলের যৌথ বনজ সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ এবং জীবিকার জন্য ব্যবহারের সুযোগ দিতে হবে।
২. বন অধিকার আইন অনুযায়ী গড়ে তোলা গ্রাম সভার অনুমোদনক্রমে কৃষি ও বাস্তু জমি ব্যবহারের পাট্টা দিতে হবে।
৩. বন দপ্তরের গাছ লাগানোর বা অন্য কোন প্রকল্প রূপায়নের জন্য গ্রাম সভার অনুমতি নিতে হবে এবং এই প্রকল্প গুলি থেকে উৎপাদিত লভ্যাংশ গ্রাম সভা কে হস্তান্তর করতে হবে।
৪. বাঁকুড়া জেলার সরকারি দপ্তর গুলোতে এস সি, এস টি দের জন্য সংরক্ষিত সমস্ত শূন্য পদ পূরণ করতে হবে। পদোন্নতির ক্ষেত্রেও সরকারি নিয়ম মানতে হবে।
৫. দরিদ্র আদিবাসী ও তপশিলি বহু মানুষ এখনো বিপিএল/ অন্তর্দয় পরিচিতি থেকে বঞ্চিত । অবিলম্বে তাদের এই স্বীকৃতি এবং সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. আদিবাসী মানুষের জীবিকা ও উন্নয়ন এবং নিশ্চয়তার জন্য যথাযথ ঋণ দিতে হবে।
৭. যে কোন অছিলায় পুলিশের হাতে গরীব আদিবাসী ও তপশিলি মানুষের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
৮. দরিদ্র আদিবাসী ও তপশিলি মানুষদের ১০০ দিনের কাজে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
৯. দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গলে বসবাসকারী আদিবাসী ও তপশিলি মানুষকে উচ্ছেদ করা বন্ধ করতে হবে এবং যাদের জমির পাট্টা দেবার পরেও তা রেকর্ড করা হয়নি, অবিলম্বে সেগুলি রেকর্ড করার ব্যবস্থা করতে হবে।
১০. যারা বিভিন্ন পুকুর খাল বিলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের মৎস্যজীবী পরিচয় পত্র দিতে হবে এবং তাদের জীবিকা সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে, নদী গুলিকে দূষণমুক্ত করতে হবে, চাষ করার জন্য জলের পাট্টা দিতে হবে, ঋণের জন্য কেসিসির সুযোগ দিতে হবে।
১১. দামোদর নদীর উত্তরাংশ বাঁকুড়া জেলার অন্তর্ভুক্ত ও বড়জোড়া ব্লকের অধীন সীতারামপুর, পল্লিশ্রী কলোনি,রামকৃষ্ণ পল্লী, বড়মানা কলোনি গুলিকে নিয়ে আলাদা গ্রাম পঞ্চায়েত হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।

বাঁকুড়া DM অফিসে ডেপুটেশন  দৃশ্য