কোকাকোলা নয়, জল খান’, রোনাল্ডো এই বার্তাতে মার্কিন কোম্পানির ক্ষতি ৩০ হাজার কোটি!

নিউজ ডেস্ক : ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বা পর্তুগাল ২০২১ সালের ইউরোর মিশন শুরু করেছে মঙ্গলবার ১৫ জুন। খেলা শুরুর আগেই হেডলাইন কেড়ে নিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন কোনও প্রশ্ন উত্তর ছাড়াই। হাঙ্গেরির সঙ্গে খেলতে নামার ম্যাচ পূর্ববর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে কোচ ফার্নান্দো সান্তোসকে নিয়ে হাজির রোনাল্ডো। মঞ্চে গিয়ে দেখলেন টেবিলের ওপর দুটি কোকা কোলার ও একটি পানির বোতল রাখা। সাংবাদিক সম্মেলন শুরুর আগেই ঠাণ্ডা পানীয় কোকাকোলার বোতল সরিয়ে জলের বোতল হাতে নিয়ে তিনি বলেন, ‘নো কোকাকোলা, অনলি ওয়াটার’, অর্থ, ‘কোকাকোলা নয়, পানি খান!’ জলের উপকারিতার বার্তা দিলেন ‘সি আর সেভেন’। তার এমন কাণ্ড দেখে সবাই তখন অবাক। তার এমন কান্ড নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ফুটবল ভক্তদের মধ্যে।

এতেই ঘটেছে বড়ো বিপত্তি। মোটা অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হলো, ইউরো কাপের মুখ্য বিজ্ঞাপনদাতা ঠান্ডা পানীয় কোকাকোলার। ঠান্ডা পানীয়র চেয়ে জল খাওয়া অনেক বেশি উপকারী। তাঁর এই আবেদনেই রাতারাতি ধাক্কা খেল মার্কিন কোম্পানির ব্যবসার । একলাফে শেয়ার বাজারে এর মূল্য অনেকটাই নেমে যায়। কোকা-কোলা জানাচ্ছে, ৫৬.১০ ডলার থেকে নেমে দাঁড়াল ৫৫.২২ ডলারে। অর্থাৎ একধাক্কায় ১.৬ শতাংশ পড়ল শেয়ারের দাম। পানীয়টির মার্কেট ভ্যালু ২৪২ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে হল ২৩৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ পর্তুগিজ মহাতারকার একটি বাক্যে ৪ বিলিয়ন বা ৪০০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়ে গেল কোকা-কোলার। সেটা ভারতীয় টাকায় ৩০ হাজার কোটি। এমনটাই জানিয়েছে স্প্যানিশ গণমাধ্যম মার্কা। পর্তুগাল-হাঙ্গেরি ম্যাচের ত্রিশ মিনিট আগে শেয়ার বাজার খোলে ইউরোপে। খোলার সময় কোকা-কোলার শেয়ারের দাম ছিল প্রায় ৫৬.১০ ডলার করে। অথচ এর কয়েক মিনিট পরেই দাম কমে আসে ৫৫.২২ ডলারে।

তবে রোনালদো এ বার্তায় আরো একবার স্পষ্ট তিনি ফিটনেস এবং স্বাস্থ্য নিয়ে কতটা সচেতন। স্বভাবতই রোনালদোর এ বার্তা ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে সারাবিশ্বে। ফিটনেস নিয়ে রোনালদোর সচেতনতা আজকের নয়। বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম, খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করে আসছেন। এতে মাঠের পারফরম্যান্সে নিজেকে নিয়ে গেছেন চূঁড়ায়।

রোনালদো যে ব্যক্তি জীবনে বেশ পরিমিত খাদ্যাভ্যাসে বিশ্বাসী আর তাতে কোমল পানীয়ের ঠাই নেই, তা জানা গিয়েছিল তার সাবেক সতীর্থ প্যাট্রিস এভরার ভাষ্য থেকে। তিনি বলেছিলেন, ‘ওর বাসায় গিয়েছিলাম খুব ক্ষুধা নিয়ে, কিন্তু সেখানে গিয়ে সালাদ, মুরগির বুকের মাংস আর পানি ছাড়া আর কিচ্ছুটি পাইনি।’

শুধু নিজের-ই নয় ছেলের ফিটনেস নিয়েও বেশ সচেতন রোনালদো। গত বছর দুবাইয়ে শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার নেওয়ার সময় ছেলের সম্ভাবনা নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল।রোনালদো কোনো রাগঢাক না রেখে বলেন, ‘আমার ছেলের সম্ভাবনা আছে। দেখা যাক সে গ্রেট ফুটবলার হতে পারে কি না।প্রায় ওকে কোকা কোলা, চিপস খেতে দেখি। যা আমাকে বিরক্ত করে। বকা দিলে লুকিয়ে নেয়। আবার আমি ঘরে না থাকলে সেগুলো বের করে খেতে শুরু করে। আমি চাই সে এগুলি এড়িয়ে চলুক। ছোট বলে হয়তো বুঝতে পারছে না। মাত্র ১০ বছর। এগুলো শরীরের জন্য মোটেও ভাল নয়।’

স্বাভাবিকভাবেই বেশ চাপে কোকা-কোলা। তাই সিআর সেভেনের সেই মন্তব্যের পর ব্যবসা চাঙ্গা করতে শেষমেশ একটি বিজ্ঞপ্তিই জারি করে ফেলল তারা। যেখানে বলা হয়েছে, “পানীয় নিয়ে প্রত্যেকের পছন্দ আলাদা। যে কেউ নিজেদের ইচ্ছে, প্রয়োজন ও স্বাদ অনুযায়ী ঠান্ডা পানীয় বেছে নিতে পারেন।” কিন্তু এই বিজ্ঞপ্তিতে শেয়ার বাজারে কোম্পানির গ্রাফ ফের ঊর্ধ্বমুখী হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

এদিকে হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে ৩ গোলের জয়ের জোড়া গোলই এসেছে জুভেন্তাস তারকা রোনাল্ডোর পা থেকে । একটি পেনাল্টি থেকে, অন্যটি বিপক্ষের গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে। প্রথম গোলটি করার সঙ্গে সঙ্গেই ইউরো কাপের ইতিহাসে সব চেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড গড়ে ফেলেন তিনি। সেই সঙ্গে পঞ্চম ইউরো কাপ খেলতে নেমে গোল করে, তাঁর খেলা সব কটি ইউরো কাপে গোল করার রেকর্ডও গড়লেন তিনি।

উঠছে প্রশ্ন, রোনাল্ডো যখন ঠান্ডা পানীয়র বদলে জল পানের পরামর্শ দিচ্ছেন, তখন তাঁর অনুরাগীরা কি আর তা না মেনে থাকতে পারেন ?