পুলিশ কর্মী সুরাফের উপর বর্বর পুলিশি অত্যাচারের বিচার চাওয়াতে মানবধিকার ও সমাজ কর্মীরা গ্রেফতার

নিজস্ব সংবাদদাতা : অমানবিক বর্বর পুলিশি অত্যাচারের প্রতিবাদ, দোষী ও অপরাধী পুলিশ কর্মীদের বিচার চাইতে গিয়ে গ্রেফতার হল ৩০ জন প্রতিবাদী। এদের মধ্যে ছিলেন মানবাবধিকার কর্মী,সামাজিক কর্মকর্তা,গবেষক। অনুমতি নিয়েই  বিভিন্ন গণ-সংগঠন আলিপুর DM অফিসে ডেপুটেশ জমা দেওয়ার, এবং সুবিচারের দাবিতে বিক্ষোভে কর্মসূচি ব্যবস্থা রেখেছিলেন। কর্মসূচি শুরুর আগেই পুলিশি অভিযানে  অংশগ্রহণ কারী সকলকে গ্রেফতার করা হয়।

উলেখ্য, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর থানার অন্তগত কালিকাপুর গ্রামের পুলিশ কর্মী সুরাপ হোসেনের উপর বর্বর আমবিক অত্যাচার চালায় (ঘটনা ৬ আগস্ট) সোনারপুর থানার দুই অফিসার, সাথে সিভিক পুলিশও। উলঙ্গ করে মাঠে ফেলে গণ-ধোলায় দিয়েছিলো পুলিশ কর্মীরা। মারের উপর মারের ফলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। সুরাপ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তিও ছিলেন। অন্য ব্যক্তির নামে গ্রেফতারি পরোয়ান ছিল, কিন্তু পুলিশ হাজির হয় সুরাফ হোসেনের বাড়িতে। সুরাফ বলেন গ্রেফতারি পরোয়ানার কাগজ দেখান, তখনই পুলিশ গলার কলার ধরে, মারধর শুরু করেন। সুরাফ নিজেকে পুলিশ পরিচয় দেওয়ার পর বাড়ে অত্যাচার। বিভিন্ন ধারাতে মামলা দেওয়া হয়। পুলিশ অভিযোগ করে, পুলিশের উপর হামলা করেছে সুরাফ ও তার পরিবার। জাতীয় দলের ফুটবল প্লেয়ার ছিলেন সুরাফ। বাড়ির মহিলাদের উপর অত্যাচার করে পুলিশ। লাঠি মেরে সুরাফের গর্ভবতি স্ত্রীর বাচ্চা নষ্ট করে দেয় পুলিশ। এখন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সুরাফ।

ডেপুটেশনে ও বিক্ষোভে মিছিলে অংশগ্রহণ করেন  এপিডিআর পপুলার ফ্রন্ট,  বন্দিমুক্তি কমিটি, অধিকার, একুশের ডাক, সেভ ডেমোক্রেসির সহ আমাদের পনেরো জনকে গ্রেপ্তার করে লালবাজার নিয়ে যাচ্ছে।। আইনজীবী আনিসুর রহমান এর হাতে ভীষন চোট লেগেছে।  বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণ করার অপরাধে ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার কৃত ব্যক্তিরা নাতাশা খান, শাওন দাস, জুবি সাহা, দেবাঞ্জন চক্রবর্তী, আনিসুর রহমান, রঞ্জিত শুর, জগদীশ সরদার,সরোজ মন্ডল, নবকুমার বিশ্বাস, দেবাশীষ ভট্টাচার্য, তায়েদুল ইসলাম, সুমিত ঘোষ, চঞ্চল চক্রবর্তী, আদবাব আলম, রাজেশ ফকির,, ইলিয়াস গাজি সহ আরো অনেকে। প্রথমে ভবানীপুরে নিয়ে যাওয়া হয়,পরে লালবাজারের নিয়ে যাওয়া হয়।

সোনারপুর থানাতে ডেপুটেশন ও ঘেরাও, বারুইপুরে SP অফিস ডেপুটেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচির মাধ্যমে দোষী ও অপরাধী পুলিশ কর্মীর শাস্তির দাবি জানানো হয়। প্রায় দুই মাস অতিক্রান্ত, উর্ধতন কর্তৃপক্ষ কোন রকম পদক্ষেপ গ্রহণ হয়নি, দোষী পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে। উল্টে সোরাফ হোসেন ও তার পরিবারের উপর নতুন মামলা দায়ের করেছে সোনারপুর থানা। অপরাধী পুলিশ কর্মীর শাস্তির আওয়াজ জোরদার করতে ২৮ সেপ্টম্বর মঙ্গবার DM অফিসে ডেপুটেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি নেওয়া হয়। প্রশ্ন উঠছে, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মুখ্যমন্ত্রী মমতার বাংলাতে নিধিদ্ধ  কি?