বিহারে গণতন্ত্র পদদলিত, সম্পূর্ন হিন্দুত্ব প্রতিনিধি ও মন্ত্রী নিয়ে গঠিত হলো মন্ত্রিসভা

নিউজ ডেস্ক : নীতীশ কুমারের মন্ত্রিসভা গঠিত হলো মুসলিম বিহীন! বিহারের ইতিহাসে প্রথম ঘটলো। বিজেপি জোট নীতীশ মন্ত্রিসভার ক্যাবিনেটের ১৪ জন সদস্য শপথ নিয়েছেন। অথচ তাঁদের মধ্যে একজনও মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত নন। ১৭ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত বিহারের রাজনৈতিক ইতিহাসে একেবারে নজিরবিহীন।

সদ্য সমাপ্ত বিহার বিধানসভা নির্বাচনে ১২৫টি আসন নিয়ে পাটনার মসনদ দখল করেছে এনডিএ। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার-সহ মোট ১৪ জন মন্ত্রী শপথও নিয়েছেন। যাঁদের মধ্যে দুই উপমুখ্যমন্ত্রী-সহ মোট সাতজন বিজেপির বিধায়ক। মুখ্যমন্ত্রী-সহ পাঁচজন জেডিইউ বিধায়ক ও বাকি দুজন হাম ও ভিআইপি-র সদস্য। গুরুত্বের নিরিখে দেখতে গেলে অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরই রয়েছে বিজেপির হাতে। তবে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্ব নিজের হাতে রেখেছেন নীতীশ কুমার।

রাজনৈতিক মহলের অভিযোগ, বিজেপির অঙ্গুলিহেলনেই গঠিত মন্ত্রিসভা এবং চলবেন নীতীশ কুমার। গতবার নীতীশ কুমারের মন্ত্রিসভার একমাত্র মুসলিম প্রতিনিধি ছিলেন খুরশিদ আলম। এবারের মন্ত্রিসভায় দলিত, যাদব, ভূমিহারা, ব্রাহ্মণ, রাজপুত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। নেই কেবল মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত কোনও মন্ত্রী। যা নিয়ে ইতিমধ্যে বিতর্ক মাথাচারা দিয়েছে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি, হাম অথবা ভিআইপির তরফে কোনও মুসলিম প্রার্থী ভোটে লড়াই করেননি। একমাত্র নীতীশের দলের ১১ জন প্রার্থী ভোটে লড়েছেন। তবে তাঁদের মধ্যে কেউই নির্বাচনে জিততে পারেননি। গতবারের মন্ত্রী খুশিদ আলমও হেরে গিয়েছেন। ১৭ শতাংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন না নিতিষ কুমারের। বৃহৎ জনসংখ্যাকে উপেক্ষা করছেন NDA জোট। বিহার প্রথম রাজ্য নয় বিজেপি পরিচালিত গুজরাট, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, উত্তরা খন্ড প্রভূতি রাজ্যের মন্ত্রিসভাতেও কোন মুসলিম প্রতিনিধি নাই।

“সব কা সাত, সব কা বিকাশের” সরকারে সংখ্যালঘু প্রতিনিধির স্থান নয়। সকল ধর্মের উন্নতিতে সরকার কাজ করবেন না, এটাই পরিষ্কার।