হিজাব নিষিদ্ধ মামলার শুনানিতে, মিনি স্কার্ট ও হিজাব সমগোত্রের পোশাক বলিলেন – সুপ্রিমকোর্টে!

নিউজ ডেস্ক : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব মামলাতে চাঞ্চল্য অভিমত দিলেন দেশের শীর্ষ আদালত। হিজাব ধর্মাচরণের অধিকার সকলেরই আছে। কিন্তু বিদ্যালয়ে কি সেই অধিকার দেখানো যায়? কর্ণাটকের হিজাব বিতর্কে এমনই প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতেই বিষয়টি তুলে ধরল শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি আদালতর বক্তব্য, অধিকারের দোহাই দিয়ে পড়ুয়ারা মিনি, মিডি স্কার্ট পরেও বিদ্যালয়ে আসতে চাইলে তাও কি মেনে নিতে হবে। আজ ৭ সেপ্টম্বর সুপ্রিম-কোর্ট উক্ত অভিমত ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরে কর্নাটকের বিভিন্ন স্কুল কলেজে হিজাব পরা নিয়ে হিন্দুবাদী সংগঠন এবং বিজেপি ছাত্র সংগঠন AVBP আপত্তি করেন, সাথে সাথে আন্দোলন করে পথে নামে। বিভিন্ন স্কুল কলেজে হিন্দুবাদী সংগঠন এবং AVBP হিংসার পথে নামে। রাজ্য জুড়ে হিংসা ছড়াতে শুরু হয়। কর্ণাটক সরকার গত ৫ ফেব্রুয়ারি একটি নির্দেশিকা জারি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, এমনকি শিক্ষকরাও হিজাব পরতে পারবে না বলে নির্দেশ জারি হয়। তারপর থেকেই সেরাজ্যে হিজাব ইস্যুতে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিশেষ করে উদুপ্পি জেলায় বিক্ষোভের জেরে স্কুল-কলেজগুলি রীতিমতো রণক্ষেত্রের রূপ ধারণ করেছিল। বিক্ষোভের জেরে বেশ কয়েকদিন স্কুল-কলেজ বন্ধও রাখতে হয় কর্ণাটক সরকারকে। পরবর্তীতে হিজাব পরে আসাতে পরীক্ষাতে বসতে দেওয়া হয়নি বহু পড়ুয়াকে।

মুসলিম সংগঠন ও পক্ষ কর্ণাটক হাই কোর্টে আরজি জানায় এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া নিয়ে। কিন্তু হাই কোর্ট সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে বেশ কিছু মামলা করা হয় সুপ্রিম কোর্টে। তারই শুনানিতে বিচারপতি হেমন্ত গুপ্তা ও সুধাংশু ধুলিয়ার ডিভিশনের স্পষ্ট বক্তব্য, ”আপনাদের ধর্মাচরণের অধিকার থাকতেই পারে। কিন্তু তা কি স্কুলে দেখানো যায়, যেখানে একটি নির্দিষ্ট পোশাকই সকলকে পরতে হয়। এমনকি বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চ এই প্রশ্নও তোলে, ”তাহলে কি পড়ুয়ারা মিনি, মিডি যা খুশি পরে আসতে পারে?” তাঁরা এই প্রশ্ন করেন আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়েকে, যিনি বেশ কয়েকজন পিটিশন দাখিলকারীর হয়ে মামলা লড়ছেন। তবে মিনি স্কার্ট ও মিডি স্কার্ট স্কুলে চালু আছে।

এদিন শীর্ষ আদালত আরও জানায়, রাজ্য কারও অধিকার কেড়ে নিচ্ছে না। রাজ্য কেবল জানিয়ে দিচ্ছে, সমস্ত পড়ুয়াদের জন্য যে পোশাক বিধি রয়েছে, সেটাই মেনে চলতে হবে। প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্ট এই ইস্যুতে কর্ণাটক সরকারকে নোটিস পাঠিয়েছে।