ভোটের গরম বাজারে সরকার পক্ষ ও বিরোধী পক্ষ গঙ্গাতে কুলাকুলি ও নাচানাচিতে মত্ত

কলকাতা : রাজনীতির মারামরি ও কাটাকাটি দোলে ভুলে গেল তৃণমূল এবং বিজেপি। আজ সব রং মিলেমিশে একাকার হওয়ার কথা। তাই বলে রাজনীতির রংও! তাই তো হল। তিনি মদন মিত্র। জনমানসে তিনি রঙিন মানুষ বলেই জনপ্রিয়। আর এমন রংয়ের দিনে তিনি যে নানা রঙ মিশবেন তা তো স্বাভাবিক। এমনিতেই টলিউডের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ মদন মিত্রের। বারবার বহু মঞ্চে তাঁকে টলিউডের চেনা মুখেদের মাঝে দেখা যায়। আর সেই মেলামেশায় তিনি রাজনীতির রঙের বাছবিছার করেন না। দোলের দিন তো সেসব একেবারেই করলেন না। দোল উত্সবে মাতলেন বিজেপির তিন প্রার্থী তনুশ্রী, শ্রাবন্তী ও পায়েলের সঙ্গে। দেদার মজা করলেন। নাচলেন, গাইলেন, দোল উত্সবের সকালে সবুজ-গেরুয়া মিলেমিশে একাকার হল গঙ্গাবক্ষে। গতকালই এই সব নেতা ও নেত্রীরা একে অপরের দিলে বিভিন্ন অভিযোগ করে টকশতে ঝাকড়া করেছে।

বিধানসভা নির্বাচনে শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, পায়েল সরকার ও তনুশ্রী চক্রবর্তী বিজেপির প্রার্থী। বেহালা পূর্বের প্রার্থী অভিনেত্রী পায়েল সরকার। অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় বেহালা পশ্চিমে। হাওড়ার শ্যামপুরে বিজেপি প্রার্থী তনুশ্রী চক্রবর্তী। একুশের নির্বাচনে এক দল রুপোলি পর্দার মুখ প্রার্থী হয়েছেন। তৃণমূল ও বিজেপি, দুই শিবিরই পর্দায় নায়ক-নায়িকাদের প্রার্থী করে সাধারণ মানুষর মাঝে নিয়ে এসেছেন। তবে এখনও পর্যন্ত দুই শিবিরের প্রার্থীদের একই মঞ্চে পরস্পরের সঙ্গে নাচ-গানে মেতে উঠতে দেখা যায়নি। মদন মিত্রের সৌজন্যে এবার বাংলর মানুষ সেই বিরল ছবিও দেখলেন।

দোল উত্সবে আবার রাজনীতির পাঁচিল কীসের! প্রশ্ন মদন মিত্রের। গঙ্গাবক্ষে তনুশ্রী, পায়েল, শ্রাবন্তীর সঙ্গে মদন মিত্র মিশে গেলেন পুরনো বন্ধুর মতো। রঙের উত্সবে সবুজ আবির গালে মাখলেন শ্রাবন্তী, পায়েলরা। আর গেরুয়া আবির গালে তুলতে একটুও অনীহা করলেন না মদন মিত্রও। বাংলার সংস্কৃতি, বাংলার কৃষ্টি, বংলার ঐতিহ্য যেন রাজনীতির রঙ না লাগে! সাধারণ মানুষ তো বারবার এটাই বলে এসেছেন। বাস্তবে হয়তো করে দেখালেন মদন মিত্র।

শ্রাবন্তী, পায়েল, তনুশী বিজেপিতে যুক্ত হয়ে তৃণমূল পাটি এবং মুখ্যমন্ত্রীকে সমালোচনা করেছেন। আজ তাঁরাই তৃণমূল নেতা মদন মিত্র এবং তরুণ তৃণমূল মুখপত্র দেবাংশু। এ যেন রূপ কথার গল্প! এই ছবি থেকে জনগণের বা ভোটারদের শিক্ষা নেওয়ার আছে। কর্মীদের প্রাণ যায় লড়াই করে আর নেতারা একসাথে মস্তি করে!