গর্ভবতী নারী সাফুরা জেলে দেওয়া হচ্ছেনা জামিন, নীরব দেশ! কিন্তু গর্ভবতী পশুর জন্য মায়াকান্না

নিউজ ডেস্ক : তিনবারে আবেদনেও জামিন দিলনা বিজেপি সরকার। একটি গর্ভবতী হাতির মৃত্যুতে যে ভারতবর্ষ কান্নাকাটি করে, সেই ভারতের আইন উদেশ্য প্রনোদিত ভাবে গর্ভবতী মাকে আটকে রাখে! ফের জামিনের আর্জি খারিজ হয়ে গেল জামিয়ার অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রী সফুরা জারগার। ৫ জুন শুক্রবার তৃতীয়বারের মতো তার জামিনের আর্জি খারিজ করে দেয় দিল্লীর পাতিয়ালা হাউস কোর্ট। চলতি বছরের ১০ এপ্রিল, CAA বিলের বিরোধিতার কারনে গ্রেফতার করে অমিত শাহের দিল্লি পুলিশ।

উল্লেখ করা যেতে পারে, গত বছরের ডিসেম্বর ও চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের CAA-এর বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ব্যাপক আন্দোলন সংঘটিত হয়। সেই আন্দোলন, প্রতিবাদ সভায় অংশ নেন দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের গবেষক সফুরা জারগার। তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন বিক্ষোভ কর্মসূচিতে। মহামারী ভাইরাসের প্রকোপের ঠিক মাঝের এপ্রিল মাসে সন্ত্রাসবাদী দমন আইন UAPA মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে দিল্লী হিংসায় জড়িত থাকা বা ষড়যন্ত্রেরও অভিযোগ নিয়ে আসা হয়। গ্রেপ্তারের সময় সফুরা দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বর্তমানে ২৭ বছরের ওই তরুণী ২১ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। শারীরিক অসুবিধা জনিত কারণে মানবিকতার ভিত্তিতেই তার জামিনের আবেদন করা হয়। কিন্তু দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট সেই আবেদন কার্যত খারিজ করে দেয়।

কোন সন্ত্রাসী কার্যকাল, কোন উস্কানি বক্তব্য, কোনরকম অস্ত্র বা বোম্ব সহিদ পাকড়াও, কোন কিছুই রকমের সাথে যুক্ত নন সাফুরা এবং প্রমানও দিতে পারেনি পুলিশ। কিন্তু UAPA ধরাতে গ্রেফতার। CAA-আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে দমন করতে ইচ্ছাকৃতভাবে দিল্লি দাঙ্গার সাথে যুক্ত করে প্রতিবাদীদের জেলে ভরছে অমিত শাহ। সুধু সাফুরা নয়, করোনা পরিস্থিতিতে জামিয়া, আলীগড়, JNU মিলিয়ে ৮ স্টুডেন্টকে গ্রেফতার করেছে বিজেপি সরকার। সকলেই CAA বিরোধী আন্দোলনের সাথে যুক্ত।

করোনা ভাইরাসের সতর্কতার বিষয়ে হু ও ভারত সরকার নির্দেশিকাতে স্পস্ট বলা হয়েছে গর্ভবতীদের দিকে বিশেষ নজর দিতে। কিন্তু সাফুরার ক্ষত্রে সেই নির্দেশিকাকে অমান্য করে যাচ্ছে দিল্লির পাতিয়ালা কোর্ট। জেলের মধ্যে অস্বাস্থ্যকর অবস্থাতে গর্ভের সন্তান ও নিজের জীবন কাটছেন সাফুরা।

অন্যেদিকে কেরালার পালাক্কাড জেলাতে একটি হাতি গর্ভবতী হাতি ঘটনাচক্রে বাজি মিশ্রিত আনারস খেয়ে মারা যায়। গর্ভবতী হাতি মারা যাওয়াতে ভারত উত্তাল। ইচ্ছাকৃত ভাবে হাতি মারা হয়নি, বুনো শুয়োরের হাত থেকে ফসল বাঁচাতে খাবারের ফাঁদে হাতি চলে আসে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে মূল স্ট্রিম মিডিয়া, নেতা-মন্ত্রী, কেন্দ্রীয় সরকার, পশু-প্রেমী, খেলোয়াড়, অভিনেতা-অভিনেত্রী, সেলিব্রেটি, বুদ্ধিজীবী, এবং নেটিজেনরা সকালে গেল গেল আওয়াজ তোলে। কিন্তু এই মানুষ গুলোই গর্ভবতী মা সাফুরার বেলাতে চুপ। এর মূলত কারন সাফুরা মুসলিম। জেলে থাকা অবস্থাতে সাফুরা শরীরে নতুন রোগ দেখে দিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি বা জামিনও দিচ্ছেনা সরকার।

হাতি মৃত্যুতে বিজেপি সরকারের কেবিনেট মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর বলেছেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃত নয়! উনার ভাষাতে উনাকে ও দেশবাসীকে বলছি, গর্ভবতী মাকে ইচ্ছা ভাবে সন্ত্রাসী বলে আটকে রাখা ভারতীয় সংস্কৃত কি ?