আর্থিক দুর্নীতির মামলাতে মালেশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ১২ বছরের জেল, এটা ভারতে আইনে হয়তো সম্ভব হতো না !

নিউজ ডেস্ক : আইন সকলের জন্য সমান, সেটা করে দেখালো মালেশিয়া। কয়েক লক্ষ ডলার আর্থিক দুর্নীতি মামলা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার সহ সাতটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত মালয়েশিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রেজাকের ১২ বছরের কারাদণ্ড হল। মঙ্গলবার এই সাজা ঘোষণা করেছে মালয়েশিয়ার একটি আদালত। মালয়েশিয়ার দুর্নীতিদমন পদক্ষেপের প্রয়াস হিসেবে নাজিবের বিরুদ্ধে এই মামলা রুজু হয়েছিল। নাজিব অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগই স্বীকার করেননি। মালয়েশিয়ার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদ তহবিলের বিরুদ্ধে এই দুর্নীতি মামলা সারা বিশ্বে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে চলা দুর্নীতি এবং প্রতারণাকে সামনে নিয়ে আসে। এই মামলার জেরেই নাজিবের রাজনৈতিক দল ইউএমএনও–র পতন ঘটে ৬১ বছর পর। মালয়েশিয়া স্বাধীন হওয়ার সময় থেকেই দেশের মসনদে ছিল ইউএমএনও। নাজিব নিজে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ২০০৯–২০১৮ পর্যন্ত। তাঁকে এদিন আদালত ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য ১২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। অর্থ নয়ছয় এবং বিশ্বাসভঙ্গের জন্য পৃথকভাবে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে। এদিন কুয়ালালামপুর হাইকোর্টের বিচারপতি মহম্মদ নাজলান মহম্মদ ঘাজালি তাঁর রায়ে বলেন, সব সাক্ষ্য প্রমাণ বিচার করে তিনি সিদ্ধান্তে এসেছেন, যে বাদী পক্ষের পেশ করা সব কিছুই সন্দেহাতীত। তাই তিনি নাজিবের সাজা ঘোষণা করেন। যদিও নাজিব বলেন, তিনি রায়ে অসন্তুষ্ট এবং তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে ফের আপিল করবেন।

আমাদের দেশে বর্তমান আইনে দুর্নীতিগ্রস্থ নেতা মন্ত্রী ও সংসদদের কোন রকম শাস্তি দিতে পারে না। দেশের ৪২ শতাংশ সংসদের নামে ফৌজদারি মামলা চলছে। বহু সংসদ ও বিধায়কদের উপর ধর্ষণ এবং হত্যার মতো গুরুতর মামলা চলছে। কিন্তু আইন তাদের শাস্তি দিতে অক্ষম!