বিসর্জনে মালবাজারের হড়পা বানে ভেসে যাওয়া ১২ জনকে বাঁচিয়ে বাস্তবের নায়ক মোহাম্মদ মানিক!

নিউজ ডেস্ক : মালবাজার সকলেই তখন আনন্দে প্রতিমা বিসর্জন দেখছিলেন ডুয়ার্সের মাল নদীতে। হটাৎ মাল নদীতে হাড়পা বান, ঘটে যায় বড়ো দুর্ঘটনা। এখন পর্যন্ত খবর এক শিশু সহ ৮ জনের মৃত্যু, আহত ৫০ অধিক, বহু মানুষ নিখোঁজ।

গতকাল পাঁচ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যাতে ডুয়ার্সের মালবাজার শহরের পাশাপাশি থাকা বিভিন্ন চা-বাগান এলাকা থেকে পুজো উদ্যোক্তারা তাঁদের প্রতিমা নিয়ে বিসর্জন দিতে আসেন নদীতে। আর সেই বিসর্জন দেখতে ডুয়ার্সের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আট হাজার মানুষ বিসর্জন ঘাটে জড় হয়েছিলেন। আর তাদের মাঝেই উপস্থিত ছিলেন তেশিমলা গ্রামের যুবক মহম্মদ মানিক।

যখন প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া চলছিল মাল নদীতে। সেই সময় আচমকা নদীতে হড়পা বান আসে। চোখের সামনে মানুষকে ভেসে যেতে দেখেন মানিক। আর সেই দৃশ্য দেখে কোনও কথা চিন্তা না করেই, নিজের জীবনের চিন্তা না করে, ঝাঁপিয়ে পড়েন নদীতে ভেসে যাওয়া মানুষদের বাঁচাতে। সেখানে মানিক ১৫ ফুট উচু থেকে জীবনের ঝুকি নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ১০ জনের অধিক মানুষের প্রান বাঁচান। অন্য আরো মানুষ জন উদ্ধার কার্য না করে, ক্যামেরা করতে ব্যস্ত ছিলো। সেই খানে ভিন্ন ধর্মী মানিক নিজের জীবনের কথা না ভেবে ঝাঁপিয়ে পড়ে উদ্ধার করতে। আর সেই কাজের জন্যই এখন নানা সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন মানিক। সম্প্রীতির নজির স্থাপন করেছে বলা যায়।

জলে ভেসে যেতে থাকা মানুষদের উদ্ধার করতে গিয়ে পায়েও আঘাত পান মহম্মদ মানিক। রাতেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে, সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন আলোচনার কেন্দ্রে এই মহম্মদ মানিক৷ তাঁর হাতেই বেঁচেছে কম করে এক ডজন বেশি প্রাণ।

বর্তমান সময়ে মানিকের এই উদ্ধার কাজ দেশের মধ্যে চলা ধর্মীয় উৎসবে ভিন্ন ধর্মের অংশগ্রহণ বিতর্কের গালে মানবিক থাপ্পড়। দিন কয়েক আগে গুজরাট, মধ্য প্রদেশ, উত্তর প্রদেশে হিন্দু উৎসবে মুসলিম অংশগ্রহণ করেছিলাম, ফল স্বরূপ তাদেরকে গণধোলাই দেওয়া হয়। এমনকি পুলিশও শাস্তি দেয়!