মনিপুরের ক্ষমতা চ্যুত বিজেপি! মুখ্যমন্ত্রীর দুর্নীতিতে নয় বিধায়কের ইস্তফা, সরকার গড়বে কংগ্রেস

নিউজ ডেস্ক : ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া, উলট পুরাণ! তিন মন্ত্রী-সহ ক্ষমতাসীন জোটের নয় সদস্যের ইস্তফায় মণিপুরে বিপাকে পড়েছে বিজেপি সরকার। এমনকী মণিপুরের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই জয়কুমার সিংও সরকার থেকে পদত্যাগ করেছেন। যে তিন মন্ত্রী ইস্তফা দিয়েছেন, তাঁরা হলেন উপজাতি ও পার্বত্য অঞ্চল উন্নয়নমন্ত্রী এন কাইশি, যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী লেটপাও হাওকিপ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিষয়কমন্ত্রী এল জয়ন্তকুমার সিং। মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের উপর আস্থা হারিয়ে বিজেপি ছাড়লেন তিন বিধায়ক। বিজেপি সরকারে উপর থেকে সমর্থন তুলে নিলেন এনপিপি( চার বিধায়ক ), একজন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক (রবীন্দ্র সিং) এবং একজন নির্দল বিধায়ক (আসাবউদ্দিন)। যার জেরে খাদের কিনারে এসে পড়েছে মণিপুরের বিজেপি সরকার। উলটে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থন নিয়ে সরকার গড়ার দাবি জানাচ্ছে কংগ্রেস।

২০১৭ সালের মনিপুর বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে উঠে এসেছিল কংগ্রেস। ৬০ আসনের মনিপুর বিধানসভায় কংগ্রেসের দখলে যায় ২৮টি আসন। বিজেপি পায় ২১টি আসন। কিন্তু ঘুরপথে এনপিপির চার, এনপিএফের চার, তৃণমূলের এক, এলজেপির ১ এবং একজন নির্দল বিধায়কের সমর্থনে সরকার গড়ে বিজেপি। রাজ্যপাল নাজমা হেপাতুল্লাও সেসময় কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে বিজেপিকে সরকার গড়তে আহ্বান করেন। এন বীরেন সিংয়ের নেতৃত্বে মণিপুরে সরকার গড়ে গেরুয়া শিবির।

পরে বেশ কয়েক দফায় মোট ৭ জন কংগ্রেস বিধায়কও পদত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন। যাদের দলত্যাগ বিরোধী আইনে বিধায়ক পদ খোয়াতে হয়েছে। আদালত তাঁদের বিধানসভায় প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। প্রথমেই বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দেওয়া আর একজন কংগ্রেস বিধায়কের মণিপুর বিধানসভার সদস্যপদ আগেই খারিজ হয়ে গিয়েছিল। ফলে, বিধানসভার শক্তি কমে ৫২ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের পাশে এখন সর্বসাকুল্যে রয়েছেন ২৩ বিধায়ক। এর মধ্যে ১৮ জনই বিজেপির। এ ছাড়া নাগা পিপল’স ফ্রন্ট্রের (NPF) ৪ বিধায়ক, এলজিপির একজন বিধায়ক মণিপুর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন। ফলে, সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছে ক্ষমতাসীন সরকার।

এদিকে গত কয়েক মাসে মণিপুরের রাজনীতিতে বহু পটপরিবর্তন হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সদ্যই বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন ৩ জন বিধায়ক। বিজেপি সরকারের থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে এনপিপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস। সমর্থন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেছেন নির্দল বিধায়কও। কংগ্রেসের দাবি, এর ফলে বিধানসভায় বিজেপি সরকার এখন সংখ্যালঘু, সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাঁদের হাতে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওকরাম ইবোবি সিংয়ের নেতৃত্বে ফের সরকার গড়বে তাঁরা। রাজ্যপালের কাছে তাঁরা বিশেষ অধিবেশন ডেকে আস্থাভোট করানোর দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস শিবির।

কংগ্রেসের আসন সংখ্যা এই মুহূর্তে মতো ৩০ জন বিধায়ক। তাঁদের সমর্থন করছেন এনপিপির ৪, তৃণমূলের এক এবং দুই নির্দল বিধায়ক। ৬০ আসনের বিধানসভায় ৮ জনের বিধায়ক পদ বাতিল হওয়ায় আপাতত বিধানসভার মোট আসন দাঁড়িয়েছে ৫২। ম্যাজিক ফিগার ২৭। কংগ্রেসের হাতে আছে ৩০ জন বিধায়কের সমর্থন। এদের মধ্যে বিজেপি থেকে আসা ৩ বিধায়ক যদি পদত্যাগ করেন, তাতেও হাত শিবিরের কাছে ২৭ জন বিধায়কের সমর্থন থাকবে। ম্যাজিক ফিগার কমে হবে ২৫। স্বাভাবিকভাবেই এই মুহূর্তে সরকার গড়ার মতো পরিস্থিতিতে আছে কংগ্রেস। সেখানে সরকার পক্ষ বিজেপির হাতে ২৩ জন।

মাঝের একটা দিন পরেই (১৯ জুন) রাজ্যসভায় মণিপুরের একটি আসনের জন্য ভোট রয়েছে। রাজ্যের ওই একটি মাত্র আসনে জিততে বিজেপি ও কংগ্রেস উভয়েই মরিয়া। বিজেপি মণিপুরের টিটুয়ালার রাজা লেসেম্বা সানাজোবাকে মাঠে নামিয়েছে। কংগ্রেসের প্রার্থী টি মাঙ্গি বাবু। ফলে, শেষ পর্যন্ত কী হয়, সেদিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।