বাংলাদেশের মন্দিরের বদলা, কৃষ্ণনগর ‘জামে মসজিদে’ হামলা চালালো বিশ্ব হিন্দু পরিষদ!

নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশে মন্দিরে হামলার বদলা, ভারতে মসজিদের উপর হামলা শুরু। ত্রিপুরার জামে মসজিদে হামলা চালালো দুষ্কৃতীরা। ভাঙচুর করা হয়েছে জানালার কাঁচ, লাইট, সিসিটিভি ক্যামেরা। এলাকাতে সন্ত্রাসের বাতাবারণ সৃষ্টি হয়েছে। মসজিদে পুলিশি পাহাড়া দেওয়া হয়েচ্ছে।

গতকাল ২১ অক্টোবর ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলার নিকটবর্তী কৃষ্ণনগর জামে মসজিদে দুপুর বেলা জামে মসজিদে হামলা চালানো হয়। স্থানীয় পত্রিকা ‘ত্রিপুরা ইনফওয়ে’ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে জানা গিয়েছে ‘হিন্দ হিন্দু পরিষদ’ ও ‘বজরঙ্গ দল’ মসজিদে হামলা করেছে। একটি মিছিল বাহির করেছিল উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন গুলি, মিছিলের কিছু অংশ মসজিদে হামলা করেন। ঘটনার খবর পেয়ে পশ্চিম আগরতলার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

উলেখ্য, সম্প্রতিক বাংলাদেশের কুমুল্লার পুজো মণ্ডপে কোরআন অবমাননা, তার পরবর্তীতে কয়েকটি মন্দির ও পরিবারের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। হাসিনা সরকার শক্ত হাতে দাঙ্গার মোকাবিলাতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ৫০০ অধিক জন গ্রেফতার, ৪১ জন ব্যক্তির মানে FIR করেছে প্রশাসন।

বাংলাদের উক্ত ঘটনাকে নিয়ে ভারতে প্রভাব পড়েছে। ভারতে একটা গ্ৰুপ হিন্দু মুসলিম সম্পর্কে ফাটল ধরিয়ে দাঙ্গা লাগানোর প্রয়াস চালাচ্ছে বিভিন্ন উপায়ে। গঙ্গা পারের হিন্দু নির্যাতনকে হাতিয়ার করে ঘোলাজলে মাছ ধরতে ভারতের ক্ষমতাধারী দল বিজেপি ময়দানে নেমে পড়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন ‘বাংলাদেশের হিন্দু অত্যাচারের ফল স্বরূপ বিজেপি শান্তিপুর উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে।’ বিজেপির নেতারা প্রকাশ্যের মুসলিমদের সম্পর্কে উস্কানি মন্তব্য করছেন। বাংলাদেশর ঘটনা নিয়ে বিজেপি হিন্দুত্ব ও ভিভাজনের রাজনীতির পথে হেঁটে, রাজনৈতিক জমি শক্ত করছে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকরা বলছেন ভারতের মিডিয়া এবং রাজনৈতিক নেতারা বাংলাদেশের নির্যাতনকে সামনে রেখে যে ভাবে প্রচার, আলাআলোচনা, সমালোচনা করছেন, তার প্রতিক্রিয়াতে মুসলিম সম্প্রদায় এবং মসজিদে হামলা ঘটনা বাড়বে এবং ত্রিপুরার জামে মসজিদের মতো হামলা বিভিন্ন জায়গাতে হবে। সম্প্রতি দেখা গিয়েছে ভারতের সোশ্যাল মিডিয়াতে মুসলিম বিদ্বেষী ও উস্কানির ট্রেন্ড চলো হয়েছে।

ত্রিপুরার রাজপরিবারের একজন বিশিষ্ট সদস্য প্রদ্যোত মানিক্য এই সহিংসতার নিন্দা করেছেন এবং শান্তির আবেদন জানিয়েছেন। মানিক্য আদিবাসী প্রগতিশীল আঞ্চলিক জোটের নেতাও। তার টুইটে লেখা আছে:
“আমাদের রাজ্যে যে কোন প্রেরণামূলক কাজ যেখানে সংখ্যালঘুদের বাংলাদেশে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে আক্রমণ করা হয় তার নিন্দা করা উচিত নয়! আমি আমাদের রাজ্যে সব ধর্মের মধ্যে শান্তির জন্য আবেদন করছি”।