হিন্দুদের যদি আমিরশাহিতে ঢুকতে না দেওয়া হয়,তাহলে কেমন হবে? মুসলিম বিদ্বেষ প্রসঙ্গে রানি কাশিমি

নিউজ ডেস্ক : ইসলাম বিরোধী মন্তব্য নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নেয়ার ইঙ্গিত দিলেন আরব আমিরশাহি। ভারতে সোশ্যাল মিডিয়া এবং মূল স্ট্রিম মিডিয়াতে ইসলাম বিরোধী মন্তব্য নিয়েই তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিলেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রানি হেন্দ আল কাসিমি। ভারত ও আরব আমিরশাহির সম্পর্ক নিয়ে ভাবনার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

বিগত কয়েক দিনে, পদক্ষেপ হিসাবে আরব আমিরশাহিতে কর্মরত মুসলিম বিদ্বেষী ও উস্কানি মূলক সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট কারী ব্যক্তিদের জেলে ভরেছেন এবং কিছু ব্যক্তিদের চাকরি থেকে ছাঁটাই করেছেন। আরবের নারীদের নিয়ে বাজে ও ধর্মীয় বিদ্বেষী টুইট করেছিলেন বিজেপি সংসদ তেজশিভ সুরয়া ( Tejshiv Surya), এর জবাবে ভারত সরকারকে উক্ত সংসদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানিয়ে ছিলেন রাজা পরিবার। আড়াই বছর আগে আজান নিয়ে নেগেটিভ কথা বলেছিল গায়ক সনু নিগম, এখন তিনি ওখানেই আছেন। তার বিরুদ্ধেও রাজ পরিবার প্রতিবাদ শুরু করেন। ফল স্বরূপ উক্ত টুইট ডিলিট করেছেন সনু নিগম এবং ইসলাম ধর্মের গুণগান করে বেশ কয়েটি ভিডিও বার্তা দেন।

বিগত কয়েক বছরে ভারতে বেড়ে উঠা মুসলিম বিদ্বেষ এবং ইসলাম ধর্ম অবমাননা নিয়ে স্বোচ্চার হলেন আরব আমিরশাহি। সর্বভারতীয় এক নিউজ চ্যালেনকে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি বললেন, “ভারত আর সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এমন মন্তব্য এর আগে তিনি কখনই শোননেনি। ভারতীয়দের ইতিহাসের সঙ্গে এই অভ্যাস কখনই মেলে না। তিনি একথা মনে করেন যে কয়েকজনের কথা সমগ্র ভারতের মতামত নয়, কিন্তু পাশাপাশি তিনি এই বুঝিয়ে দিয়েছেন যে এই অংশের ভারতীয়রা কী চান?‌ সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে কে আসবেন, যে যাবেন, সেটা পছন্দ করে নিতে?‌”

একটু চড়া শুরে তিনি আরো বলেন, ‘শুধু মুসলিম আর খ্রিস্টানদের এখানে আসার অনুমতি দেওয়া হবে?‌ কিন্তু আমরা তো এভাবে বড় হইনি। আমাদের তাঁরা সকলেই ভারতীয়। তাঁদের মধ্যে কোনওধর্মীয়  বিভাজন আমরা করি না, যেমন শুধু মুসলিমদের সঙ্গে কাজ করব, এমন ভাবনাও আমাদের নেই’, মন্তব্য করেছেন তিনি।‌ সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে প্রায় ৩৫ লক্ষ ভারতীয় কাজ করে থাকেন। দূতাবাসের দেওয়া তথ্য অনুসারে, মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ। তিনি বলেছেন ‘‌ভারতীয়দের কেমন লাগবে, যদি আমাদের দেশ বলে যে আমিরশাহিতে হিন্দুদের ঢুকতে দেওয়া হবে না?‌ এই দেশ থেকে বছরে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার উপার্জন করে নিয়ে যান ভারতীয়রা। যদি সেটা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে কী হবে বুঝতে পারছেন?‌ এই দেশে ভারতীয়রা কঠোর পরিশ্রম করেন। আমার মনে হয়, তাঁদের ভুল ভাবমূর্তি তুলে ধরে যাঁরা, তাঁদের সঙ্গে এঁদের এক সারিতে রাখা যায়।’‌

সুধু ধর্মের কারনে মুসলিমদের উপর অত্যাচার ও হত্যা, মুসলিমদের থেকে কোন কিছু কেনা যাবে না, সব কিছুতে উদেশ্য ভাবে মুসলিমদের বদনাম, কোন কিছু ঘটলে সরকার ও মিডিয়া মুসলিমদের অপরাধী করে দেখানো এবং সামাজিক মাধ্যমে মুসলিমদের নিয়ে  মিথ্যা ও উস্কানি প্রচার,  উক্ত সব কিছু নিয়ে প্রতিবাদ করলেন আরব আমিরশাহি। বলা যায় আরব আমিরশাহির চাপে বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা গতকাল বলেছেন, ‘সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করলে কড়া শাস্তি পেতে হবে।’