দাদুর জন্য অক্সিজেন চেয়ে টুইট করে আমিঠির যুবক শাসঙ্ক ক্রিমিনাল, হয়েছে মামলা,ঝুলছে জেলের খাঁড়া!

নিজস্ব প্রতিবেদন : আপনার অক্সিজেনের দরকার, সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করবেন না, জেল হবে। এমন আইন পাস হয়েছে বিজেপির রাজ্য গুলিতে। কেহ অক্সিজেন চেয়ে সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিলেই, শাস্তি হবে। ক’দিন আগেই কোভিড পরিস্থিতিতে জেরবার উত্তর প্রদেশে এই নির্দেশিকা জারি করেছিলেন সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী। সেই নির্দেশের সূত্রেই  তরুণ শাসঙ্কজে ‘ক্রিমিনাল’ কেসে জড়িয় দিল সে রাজ্যের পুলিস।

এভাবে কি দেওয়া যায় কেশ জনগণকে ?

তাঁর একটাই দোষ, তিনি তাঁর দাদুর জন্য টুইটেঅক্সিজেন অক্সিজেনের সাহায্য  চেয়েছিলেন। আমিঠি পুলিশ মঙ্গলবার সন্ধেবেলা টুইট করে জানিয়েছে যে, তারা এক তরুণের বিরুদ্ধে একটি ক্রিমিনাল কেস দায়ের করেছে। কারণ তরুণটি টুইটারে অক্সিজেন সিলিন্ডারের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন!

রাজ্য়ে যদি কোনও বিষয়ে কেউ কোনও আতঙ্ক বা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে তোলে বা যদি জনগণের মনের স্থিরতায় বিঘ্ন ঘটে (State or against the public tranquility) এমন কোনও বিষয় গুজবের মতো করে ছড়িয়ে দেয়, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার সন্ধেবেলা শাসঙ্ক যাদব নামের এক ব্যক্তি টুইটে নায়ক সোনু সুদকে ট্যাগ করে অক্সিজেন সিলিন্ডার চান। তিনি কিন্তু তাঁর টুইটে Covid-19 বা অন্য রকম রোগের উল্লেখ করেননি।

শশাঙ্কের এক বন্ধু অঙ্কিত রাত সাড়ে আটটা নাগাদ বন্ধুর টুইটকে রিটুইট করেন এবং তিনি এক সংবাদ মাধ্যমের সিনিয়র এডিটরকেও পাশাপাশি টুইটারে সরাসরি মেসেজ পাঠান।

ওই সম্পাদক মধ্যরাত নাগাদ বিষয়টিতে সাড়া দেন। কোথাও কোনও মেডিক্যাল হেল্প লাগলে সাংবাদিকেরা যেমন তাঁদের পরিচিতি কাজে লাগিয়ে বিষয়টা দ্রুত ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে দিয়ে পরিস্থিতি অনুকূল করার চেষ্টা করেন, তিনিও তাই-ই করেছেন। আলাদা কাজের মধ্যে তিনি কেন্দ্রয় উনিয়ন মিনিস্টার স্মৃতি ইরানিকে ট্যাগ করে দেন। কেননা ইরানি অমেঠিতে সাসংদ। উনি দ্রুত সাড়া দেন। বলেন তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।

ইতিমধ্যে অঙ্কিত ওই সিনিয়র সাংবাদিককে মেসেজ করে জানান, তাঁর বন্ধুর দাদু মারা গিয়েছেন। এই খবরটিও ওই এডিটর মন্ত্রীকে জানান। ইরানি সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেন এবং সদ্য দাদুকে হারানো যুবকের জন্য সান্ত্বনাও দেন। এই ঘটনা জেনে অঙ্কিত ইরানিকে ধন্যবাদ দেন।

ঘটনা এইখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু না, তখনও কিছু বাকি ছিল। কেননা ততক্ষণে কোভিড-ক্রাইসিস ঘিরে রাজ্যের পরিস্থিতিও অনেক বদলে গিয়েছে। আতঙ্কে দিন গুনছে সকলে। কোভিড আক্রান্ত মানেই দুঃসহ টেনসন। তারমধ্যে অক্সিজেন চেয়ে টুইট করে একজন অজান্তেই টেনসন আরও বাড়িয়ে ফেলার অপরাধে অপরাধী হয়ে পড়লেন।
২৭ এপ্রিল বিকেলে আমিঠির জেলা শাসক, আমিঠির মুখ্য মেডিক্যাল অফিসারকে একটি টুইট করে ওই সম্পাদকের পোস্টের বিষয়ে খোঁজ নেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শশাঙ্কের দাদু একটি বেসরকারি হাসপাতাসলে ভর্তি ছিলেন। তিনি হার্ট অ্যাটাক করে মারা গিয়েছেন। শশাঙ্ক বা ওই সাংবাদিক কেউই তাঁদের টুইটে কোভিডের কারণে এই অক্সিজেন-সন্ধান এ কথা উল্লেখ করেননি। কিন্তু তবুও বলা হয়, উক্ত দুই ব্যক্তি এই সঙ্কটকালে রাজ্যের নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। মঙ্গলবার সন্ধেবেলাতেই আমিঠির পুলিশ শশাঙ্ক এবং সাংবাদিককে একটি টুইট করে বলে, এই পরিস্থিতিতে এই আচরণ শুধু গুজব ছড়ানো নয়, রীতিমতো ক্রিমিনাল কেশ। তার পরেই পুলিশ জানিয়ে দেয়, তারা অভিযোগ দায়ের করছে ভারতীয় পেনাল কোডের ধারা 188, 269 এবং 505 (1)(b) ধারায়, থাকছে  Epidemic Act-এর Section 3 এবং Disaster Management Act-এর Section 54-ও। পুলিস যদি কেসটা চালিয়ে যায় তবে এতে শশাঙ্কের জেলও হতে পারে।

কদিন আগে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী সাংবাদিকদের সঙ্গে করা একটি ভার্চুয়াল কথোপকথনে জানিয়েছিলেন, জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে অসামাজিক কাজকর্ম বা গুজব ছড়ানোর মতো বিষয়গুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়াকেও এসব থেকে মুক্ত রাখার কথা বলেছিলেন তিনি। পাশাপাশি তিনি এ-ও জানিয়েছিলেন, রাজ্যে অক্সিজেনের কোনও ঘাটতি নেই! গতকালই উত্তর প্রদেশে অক্সিজেনের অভাবে হাসপাতালে চায় জনের মৃত্যুর হয়।

ঠিক তার পরই শশাঙ্কের এই ঘটনা। সংশ্লিষ্ট মহলের মত, যাতে আপাত ভাবে মনে হবে রাজ্যে অক্সিজেন সঙ্কট চলছে। তাই আর যাতে কোনও রোগীর পরিবার এরকম কোনও বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার না করে সেই বার্তা দিতেই শশাঙ্কের প্রতি এই দৃষ্টান্তমূলক ব্যবহার। জনগণে তাঁদের অধিকার হরনের পথ তৈরি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী।