বিজেপির ছাত্র সংগঠনের সন্ত্রাস, ট্রেনে খৃস্টান মিশনারি দলের উপর অত্যাচার

নিউজ ডেস্ক : উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে ট্রেন থেকে নামিয়ে কেরলের দু’জন খৃস্টান সন্ন্যাসিনীকে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের বিরুদ্ধে। তদন্তের পর সন্ন্যাসিনীদের ছাড়া হয়। ঘটনায় অমিত শাহকে চিঠি দেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

গত ১৯ মার্চ হরিদ্বার-পুরী উৎকল এক্সপ্রেসে যাত্রা করছিলেন দু’জন খৃস্টান সন্ন্যাসিনী ও দু’জন প্রশিক্ষণরত সন্ন্যাসিনী। একটি ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, তাঁদের ঘিরে রয়েছেন পুলিস কর্মীরা। একজনকে বলতে শোনা গিয়েছে,’লাগেজ বের করুন। সঠিক তথ্য না দিলে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’ আর একটি ভিডিয়ো ও ছবিতে দেখা গিয়েছে, ঝাঁসি রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে রয়েছেন মহিলারা। তারপর তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় ঝাঁসি রেলওয়ে পুলিস স্টেশনে।

ঝাঁসি রেল পুলিসের সুপার নইম খান মনসুরি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন,’ঋষিকেশ থেকে ফিরছিলেন এবিভিপি-র জনা কয়েক সদস্য। হজরত নিজামুদ্দিন থেকে ওই ট্রেনেই সফর করছিলেন ৪ খৃস্টান মহিলা। এবিভিপি সদস্যদের সন্দেহ হয়, প্রশিক্ষণরত সন্ন্যাসিনীদের ধর্ম পরিবর্তনের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপরই আরপিএফে খবর দেন তাঁরা। লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়। তাঁদের শংসাপত্র খতিয়ে দেখার পর জানা যায়, দু’জন মহিলাই খৃস্টান। ধর্মান্তরণের অভিযোগ মিথ্যা।’

কেরলে ভোটের আগেই এই ঘটনায় তৎপরতা বেড়েছে রাজনৈতিক মহলে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি দিয়েছেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন । ওই চিঠির পর অমিত শাহ আশ্বস্ত করেছেন,’সন্ন্যাসিনীদের হেনস্থায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিভিন্ন উগ্র হিন্দুত্ব সংগঠন মোদির আমলে মুসলিম অত্যাচার করে যাচ্ছে বিগত সাত বছর। ধর্মের কারনে শত শত মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যা করেছে হিন্দুত্ব সন্ত্রাসী সংগঠন। অন্যদিকে উঁচু ও নিচু জাতি ভেদে দলিত হিন্দুদেরও পিটিয়ে হত্যা করেছে হিন্দুত্ব সন্ত্রাসীরা। বিজেপি সরকার বা প্রধানমন্ত্রী মোদি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি, উল্টে বিজেপি দল হিন্দু সন্ত্রাসীদের পুরস্কার দিয়েছে, পাটির বড়ো পদ দিয়েছে তাঁদের, কোন কোন ব্যক্তিদের সরকারি নিরাপত্তাও দেওয়া হয়েছে।