আব্বাস সিদ্দীকির উপর তৃনমূল নেতা সওকাত মোল্লার সন্ত্রাসী হামলা, সাংবাদিকদের ফাটানো হলো মাথা

নিউজ ডেস্ক : ফুরফুরা শরিফের পীরজাদার আব্বাস সিদ্দীকি ভাইজানকে মারার চক্রান্ত করেন ক্যানিং পূর্বের তৃনমূল বিধায়ক সওকাত মোল্লা। আজ সোমবার সকাল এগারোটার দিকে ঘটনাটাটি ঘটেছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ভাঙড় থানা এলাকার কাজদিয়ায়। তৃণমূল বিধায়ককে গ্রেফতারের দাবিতে কয়েক হাজার লোক অবরোধ শুরু করেছেন ভাঙড় লাগোয়া ঘটকপুকুরের কাছে বাসন্তী হাইওয়ের উপর। সেখানে ছুটে যান বারুইপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইন্দ্রজিত বসু। অবরোধকারীদের দাবি, সওকত মোল্লাকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত তাঁরা অবরোধ চালিয়ে যাবেন। যদিও এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য শওকত মোল্লাকে একাধিকবার ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফোন তোলেননি।

আব্বাসের অভিযোগ, তিনি এক অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে ভাঙড়ে গিয়েছিলেন। কাজদিয়ায় পৌঁছনো মাত্রই তাঁদের উপর হামলা চালায় সওকত ও তাঁর দলবল। পিছনে যাঁরা মোটর সাইকেলে ছিলেন তাঁদেরও মারধর করা হয় বলে দাবি আব্বাসের। এরপরই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। ফুরফুরা শরিফের পীরজাদার আরও অভিযোগ, তাঁকে প্রাণে মারার চেষ্টা হয়েছিল। তাঁর দুটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তিরিশটির বেশি বাইকও ভাংচুর করা হয় বলে জানা যায়। একটি ভিডিও বার্তায় আব্বাস বলেন, “উমফানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমি কথা বলেছিলাম। সংবিধান ও দেশ বাঁচাতে রাস্তায় নেমেছিলাম। সেই আক্রোশেই আমার উপর হামলা হয়েছে।”

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই আব্বাস সিদ্দিকি ও তাঁর সঙ্গে থাকা অনুগামীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাসন্তী হাইওয়েতে যে জায়গায় অবরোধ চলছে সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে অন্তত চার থেকে পাঁচটি থানার বিরাট পুলিশবাহিনী। যত সময় বাড়তে থাকে ভিড় বাড়ে বাসন্তী হাইওয়েতে। পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতিশ্রুততে অবরোধ উঠে যায় সন্ধ্যার দিকে।

এদিকে, আব্বাস সিদ্দিকের উপর হামলা খবর প্রচার করতে গিয়ে পাঁচটি পোর্টালের সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ চালায় তৃনমূল দুস্কৃতিকারীরা। হাতে রড, লাঠি, বোমা নিয়ে ৫০ – ৬০ জনের সন্ত্রাসী হামলার ভিডিও ও ছবি তোলে কয়েটি পোর্টাল, বিষয়টি সন্ত্রাসীদের নজরে আসলে সাংবাদিকদের উপর হামলা শুরু করে। DNN Bangla পোর্টালের সাংবাদিক হাসিবুর খানের মাথাতে রড দিয়ে মেরে ফাটিয়ে দেওয়া হয়। NBTV-এর সম্পাদক সাকিরুল ইসলামকে লাঠি পেটা করা হয়, সাংবাদিক বলে পরিচয় দেওয়া ও কার্ড দেখানোর পরে মার আরো বাড়ে। DNN Bangla এর হাসিবুর খান, NBTV এর সাকিরুল ইসলাম ইসলাম, Banga Report এর আব্দুর রহিম, BIW News এর খালিদ হাসান, PM News 365 এর আফ্রিদি খান, SSTV এর সালমান মোল্লা, উনাদের সকলের উপর হামলা চালায় তৃনমূল দুস্কৃতিকারীরা। চারটি মোবাইল আর দুটি DSLR ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। অত্যাচারের ছবি যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে তাই মোবাইল ও ক্যামেরা লুঠ।

আব্বাস সিদ্দিকের উপর হামলার খবর চাউর হতে রাজ্যের কিছু জায়গায় পথ অবরোধ শুরু হয়। হুগলিতে জাঙ্গিপাড়া, শিয়াখালা-সহ বিভিন্ন অঞ্চলে পথ অবরোধ করেন আব্বাস সিদ্দিকির অনুগামীরা। হাওড়া জেলার পাঁচলাতে বোম্বাই রোড অবরোধ হয়, এই জেলার আমতা ও বাগনানে স্থানীয় সড়ক অবরোধ হয়, মুন্সীর হাটেও পথ অবরোধ হয়। উত্তর চব্বিশ পরগনার হাবড়া, বাসিরহাট, হাড়োয়াতে পথ অবরোধ হয়। পূর্ব মেদনাপুর জেলার কয়েক জায়গাতেও অবরোধ হয়। তাৎক্ষনিক রাজ্যের বিভন্ন জায়গাতে অবরোধ, বিক্ষোভ শুরু হয়। উঠে সওকত মোল্লার গ্রেফতারের দাবি। গোটা ঘটনায় রাজ্যের শাসকদল ও পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা। ঘটনার বর্ণন দিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন আব্বাস সিদ্দিকি। জেলা শাসকের দপ্তরেও অভিযোগ জমা করেছেন।

হাওড়া জেলার পাঁচতে বোম্বাই রোড অবরোধ চিত্র