ট্রাম্পের উস্কানিতে সমর্থকদের সন্ত্রাসী হামলা সেনেটে, উদেশ্য ক্ষমতা দখল! মৃত্যু ৪ জনের, গ্রেফতার ১০০

নিউজ ডেস্ক  : আমেরিকা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সেনেট হাউসে সন্ত্রাসী হামলা। কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে বৃহস্পতিবার ( আমেরিকাতে ৬ জানুয়ারি বুধবার) নির্বাচনের জয়ের শংসাপত্র পেতে চলেছেন জো বাইডেন। কিন্তু তার আগেই উত্তাল হয়ে উঠল ওয়াশিংটন ডিসি। আমেরিকার কংগ্রেসের ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে হামলা চালালেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা। কয়েক হাজার সমর্থক ট্রাম্পের সমর্থনে স্লোগান তুলে ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে জোর করে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করলেন। মুহূর্তেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ক্যাপিটল বিল্ডিং চত্বর। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় পুলিশের। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে জোর করে ঢোকার চেষ্টা করতেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে গোটা চত্বর। চার জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে, বেশ কয়েক জনের আহত হওয়ার খবর সামনে এসেছে। গ্রেফতার হয়েছেন প্রায় ১০০ জনকে। হাউসের ভিতরে সন্ত্রাসী তান্ডব চালিয়েছেন ট্রাম্প সমর্থকরা, ভাংচুর করাও হয়েছে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের গোপন সুড়ঙ্গ দিয়ে নিরাপদ জায়গাতে নিয়ে যাওয়া হয়।

বুধবারই ট্রাম্প জনসভা করে হুমকি দিয়েছিলেন, “আমরা পিছু হটব না।” তার পরই ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। যদিও হামলার কয়েক ঘণ্টা পরে ট্রাম্প টুইট করে সমর্থকদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। গত ৩ নভেম্বর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। জো বাইডেন পেয়েছেন ৩০৬টি ইলেক্টোরাল ভোট, সেখানে ট্রাম্পের ঝুলিতে গিয়েছে ২৩২টি। হামলার পিছুনে ট্রাম্প মূল চক্রান্ত কারী এটা স্পষ্ট।
ট্রাম্পে সব সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে কর্তপক্ষ। সমস্ত উস্কানিমূলক ও হিংসা তৈরির সমস্ত পোস্ট ডিলিট না করলে, সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হবে বলে হুঁশিয়ার দিয়েছেন ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম।

সেনেট হাউসের অগ্নি তান্ডব

পুলিশ সূত্রের খবর, ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে হাউস অব রিপ্রেসেন্টেটিভ এবং সেনেটের বৈঠক চলছিল আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলের চূড়ান্ত সিলমোহরের বিষয়টি নিয়ে। তখনই কয়েক হাজার ট্রাম্প-সমর্থক ক্যাপিটল বিল্ডিং ঘিরে ফেলেন। জোর করে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন। এই ঘটনার পরই গোটা ক্যাপিটল বিল্ডিং চত্বর নিরাপত্তার বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। আমেরিকার ভাবী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দেশবাসীর উদ্দেশে টেলিভিশন বার্তায় তিনি বলেন, “ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ের ঘটনা আমেরিকার সত্যিকারের ছবি হতে পারে না। কিছু উগ্রপন্থা মনোভাবাপন্ন মানুষ এ কাজ করেছেন। এটা বিশৃঙ্খলা। এটা প্ররোচনা। আমাদের লক্ষ্য আইন মেনে চলা। একে অপরকে শ্রদ্ধ করা। এটাই গণতন্ত্রের দস্তুর হওয়া উচিত।”

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই ট্রাম্প অভিযোগ তুলে আসছেন ভোট জোচ্চুরি হয়েছে। এই ফলাফলকে তিনি কিছুতেই মানবেন না।  এ নিয়ে বেশ কয়েকটি স্টেটসে মামলাও করেন ট্রাম্প। কিন্তু সব জায়গাতেই মুখ পুড়েছে তাঁর। কিন্তু তার পরেও একই দাবি তুলে বিভিন্ন জনসভায় প্রচার করছেন তিনি। এমনকি বিদায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের উপরে খোলাখুলি চাপ বাড়িয়ে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। টুইটারে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট লেখেন, ‘‘অনিয়ম আর জালিয়াতির ভোটের সংশোধন চাইছে প্রদেশগুলো। দুর্নীতির এই প্রক্রিয়া কখনওই আইনসভার সম্মতি পায়নি। মাইক পেন্সকে এখন সেগুলো (ফলাফল) তাদের কাছেই ফেরত পাঠাতে হবে। আমরা জিতব। করে ফেলো মাইক, এটা সাহস দেখানোর সময়।’’ যদিও পেন্স বলেছেন, সংবিধান মেনেই তিনি যা করার করবেন।

অবশ্য বৃহস্পতিবার হিংসার আবহেই শেষ হয়েছে আমেরিকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা পর্ব। এ দিন আমেরিকার কংগ্রেসের দুই কক্ষের যৌথ অধিবেশনে জয়ের শংসাপত্র পেয়েছেন জো বাইডেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে কমলা হ্যারিসের জয়কেও দেওয়া হয়েছে স্বীকৃতি। কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২০ জানুয়ারি আমেরিকার ৪৬ তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন বাইডেন।