মালিয়ার ৯ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার নথি গায়েব সুপ্রিমকোর্ট থেকে, এটা কি সম্ভব!

নিউজ ডেস্ক : গল্প মনে হলেও সত্যি, সুপ্রিমকোর্ট থেকে নথি চুরি। দেশে না ফেরার জন্যে এখনও সব রকম ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ভারত থেকে পলাতক লিকার ব্যারন, ব্যাংকের অনাদায়ী ঋণে অভিযুক্ত বিজয় মালিয়া। গোটা দেশ তথা বিশ্বের অধিকাংশ দেশ যখন লকডাউনের পথে হেঁটেছিল, সেই কঠিন সময়েও তিনি তাঁর ১০০ শতাংশ ঋণ শোধ করে দিতে চান বলে প্রস্তাব দিয়েছিলেন মালিয়া। আর তার পরিবর্তে আইনি প্রক্রিয়া থেকে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিনি। এহেন পরিস্থিতিতে হঠাতই সুপ্রিম কোর্ট থেকে গায়েব হয়ে গেল বিজয় মালিয়া মামলার গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু নথি। এটা চুরি নয় হয়তো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, চক্রান্ত করে।

সূত্রের খবর, আদালত অবমাননা সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত বিজয় মালিয়া যে আবেদন করেছিলেন, সেই মামলার বেশ কিছু তথ্য ছিল ওই সমস্ত নথিতে। ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০১৭ সালেই আদালত অবমাননার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন মালিয়া। তারও আগে ছিল ঋণখেলাপির মামলায় দোষী বলে সাব্যস্ত হওয়া। সুপ্রিম কোর্ট যার পরে মালিয়াকে ব্যাংকের বকেয়া প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু মালিয়া সর্বোচ্চ আদালতের সেই নির্দেশ না মেনে ছেলে সিদ্বার্থ মালিয়ার অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে দেন।

আদালতের এই নির্দেশ অবমাননার জন্যেও ২০১৭ সালে বিজয় মালিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু ওই রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরই ১৪ জুলাই রিভিউ পিটিশন দায়ের করেন মালিয়া। সেই মামলারই শুনানি বৃহস্পতিবার হওয়ার কথা ছিল বিচারপতি ইউইউ ললিত এবং বিচারপতি অশোক ভূষণের ডিভিশন বেঞ্চে। কিন্তু শুনানির সময়ই হঠাত দেখা যায় মালিয়ার আবেদন সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি আদালতের রেজিস্ট্রিতে নেই। এরপরই তাঁর আইনজীবী আদালতের কাছে বেশ কিছুটা সময় প্রার্থনা করেন। সেই মোতাবেক আগামী শুনানি ২০ অগস্ট হবে বলে জানান বিচারপতিরা। তবে, সুপ্রিম কোর্টের মতো জায়গা থেকে নথি গায়েব হওয়া নিয়ে শোরগোল পড়েছে নানা স্তরে। সত্যি নথি চুরি সম্ভব নাকি পরিকল্পনা!

লকডাউনের মাঝেই করোনা পরবর্তী আর্থিক সংকটের সমাধানে কেন্দ্রীয় সরকারের ২০ লক্ষ কোটি টাকার প্যাকেজের প্রশংসা করেছিলেন মালিয়া। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও মোদির প্রশংসার ফল নথি গায়েব নয় তো ? উঠছে বিভন্ন মহলের প্রশ্ন। নথি চুরিতে তাঁকে কি দেশে ফেরানো যাবে আর? তা নিয়ে সন্দিহান অনেকেই।